শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 ৬ই ডিসেম্বর- যশোর মুক্ত দিবস, জেলায় নানা আয়োজন

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:৬ই ডিসেম্বর- যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দু’দিক থেকে মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর আক্রমণে যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় পাকিস্তানী হানাদাররা। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সর্বপ্রথম স্বাধীন হয় যশোর জেলা। এর আগে ৪ঠা ডিসেম্বর বেনাপোল ও চৌগাছার বয়রা সীমান্ত দিয়ে হামলা শুরু করে মিত্র সেনারা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় সীমান্তবর্তী যশোর জেলা ছিল পাক হানাদারদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। বীর মুক্তিযোদ্ধারাও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ জেলাকে স্বাধীন করতে প্রাণপণ লড়াই শুরু করে।

ছিন্ন বিচ্ছিন্নভাবে পাকসেনাদের সাথে তাদের তুমুল যুদ্ধ হয় চৌগাছা ও ঝিকরগাছার জগন্নাথপুর, গরীবপুর, আড়পাড়া, দিঘলসিংহা, ঢেকিপোতা, হুদোপাড়া, কদমতলা, মাশিলা, যাত্রাপুর ও সিংহঝুলি এলাকায়। ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুরের নেতৃত্বে এ যুদ্ধে যে সব মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন, তারা জানান, জগন্নাথপুর আম বাগান এলাকায় দুই বাহিনীর প্রচন্ড গোলাগুলির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের রসদ শেষ হয়। তারপরও থেমে থাকেনি লড়াই। খালি হাতেই এ সময় পাক সেনাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
অস্ত্রের বাট, বেয়নেট, কিল, ঘুসি, লাথি, এমনকি কুস্তাকুস্তি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে।

মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় ৬ই ডিসেম্বর ছোট সিংহঝুলিতে শুরু হয় কামান যুদ্ধ। তুমুল সংঘর্ঘে পাকসেনাদের ৭টি ট্যাংক, ২টি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করে যৌথ বাহিনী। এলাকার বহু মানুষ এতে প্রাণ হারান। ক্ষয়ক্ষতি হয় গাছপালা ও ফসলের। পাকসেনারা দিশেহারা হয়ে অস্ত্র ও গোলা-বারুদ ফেলে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, এ লড়াইয়ে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং প্রায় একশ পাক সেনা নিহত হয়।

একই দিন সন্ধ্যায় পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা যশোর সেনানিবাস ছেড়ে খুলনার উদ্দেশ্য পালিয়ে যাবার সময়ও বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড যুদ্ধ হয়। তবে শেষ যুদ্ধ হয় যশোরের রাজঘাটে এবং যশোরকে প্রথম স্বাধীন জেলা ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং প্রচন্ড মনোবল নিয়ে পাক হানাদারদের পর্যদুস্ত করে।

যশোরমুক্ত দিবস উপলক্ষে যশোর জুড়ে আয়োজন চলছে নানা অনুষ্ঠানের। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে এদিন সকাল ৯ টায় টাউন হল মাঠ থেকে র‌্যালি, ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশু একাডেমির আয়োজনে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাউন হল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন অনুরুপ কর্মসূচি নিয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ