শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় নারী শ্রমিক ধর্ষণের বিচার চেয়ে মানববন্ধন

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা শহরের নিউ আব্বাস হোটেলের মালিক হজরত আলীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে হটেলে কর্মরত এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

একই সাথে ওই নারী শ্রমিকের সঞ্চয়কৃত তিন লাখ ২০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর বুধবার সকার ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা হোটেল-রেস্তোরা বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, জেলা ভুমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, জেলা হোটেল রেস্তোরা বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম বাচ্চু, ফাতেমা খাতুন, রহিমা খাতুন, ভুক্তভোগী বাছিরন নেছা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত তিন বছর আগে সাতক্ষীরা সদরের ফয়জুল্যাপুর গ্রামের সুরত আলীর ছেলে হজরত আলী শহরের নিউমার্কেট এলাকায় মেসার্স নিউ আব্বাস হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস নামে একটি খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ওই সময় থেকে নারী শ্রমিক ভুক্তভোগী বাছিরন নেছা তার হোটেলে রাঁধুনির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিন কাজ করার এক পর্যায়ে হোটেল মালিক হজরত আলী বিভিন্ন সময় তার সাথে কথা বলতেন। এক পর্যায়ের তার কুদৃষ্টি পড়ে ওই নারী শ্রমিকের উপর। একের পর এক দিকে থাকে অনৈতিক ওপ্রস্তাব। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় হজরত আলী তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হজরত শহরের কামালনগরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে ওই নারী শ্রমিককে রাখেন ও হযরত আলী সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করে শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। ওই বাসার মাসিক পাঁচ হাজার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন হযরত আলী। ভুক্তভোগী নারী শ্রমিক নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকে হযরত আলী। এর মধ্যে হজরত আলী ওই নারীর কাছ থাকা তিন লাখ ২০ হাজার টাকা স্ট্যাম্পে লিখিত করে এক মাসের জন্য ধাও নেন।

 

পরে ওই নারী শ্রমিক জোরালোভাবে হজরত আলীকে বিয়ে এবং টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করে টাকা নেয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে তাকে হোটেলের কাছ থেকে বাদ দিয়ে দেয়। উপায় না পেয়ে অসহায় ওই নারী বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাতক্ষীরা শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শালিসে তিনিসহ তার লোকজন উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও সমিতির নেতৃবৃন্দ বিষয়টির সুরাহা করতে পারিনি।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী গত ৩ অক্টোবর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হজরত আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পিবিআই সাতক্ষীরাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ছেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা এ সময় লম্পট হজরত আলীর উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

এই বিষযে অভিযুক্ত হজরত আলীর সাথে কলা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি আগেই ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করায় ওই নারী তার নামে এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ