কেশবপুর (যশার) প্রতিনিধি ॥ যশোরের কেশবপুরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকীদানকারী সেই আওয়ামীলীগ নেতা টিটোর বিরুদ্ধে স্বারকলিপির পর এবার থানায় জিডি করা হয়েছে। সোমবার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নিজে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে এই জিডি করেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে,আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-০৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনের নৌকার প্রার্থী শাহিন চাকলাদারের হলফনামা ও তার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচারনবিধি লংঘনসহ বিভিন্নভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-ভোটারদের হুমকী-ধামকী দেওয়ার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বিভিন্ন জাতীয়-আঞ্চলিক পত্রিকায় একের পর এক ফলাওভাবে প্রকাশিত হওয়ায় তেলে বেগুনে জ্জলে ওঠে কেশবপুর পৌর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী টিটো।
সংবাদ প্রকাশের পর থেকে টিটো ও তার পোষ্য বাহিনীরা কেশবপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা ও প্রাননাশের ছক নিয়ে মাঠে নামে। এই ঘটনার জের ধরে গত ২২ ডিসেম্বর-২৩ কেশবপুর শহরের গাজীর মোড়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে টিটো প্রকাশ্যে বলতে থাকে এরপরও যদি কোন সাংবাদিক শাহিন চাকলাদারের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ করে তাহলে তার পরিনাম ভাল হবে না বলে শাষাতে থাকে।
এসময় পেশাগত দায়িত্বপালন শেষে কেশবপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক কল্যানের কেশবপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুলাহ আল ফুয়াদ বাড়ীতে যাওয়ার সময় পথ গতিরোধ করে টিটোসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন ব্যক্তি ক্ষীপ্ত হয়ে তাকে প্রকাশ্যে খুন জখম ও হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকী প্রদান করে।
এমনকি পরবর্তিতে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে জীবন নাশের হুমকী দেয়। এই ঘটনার পর জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংবাদিক ফুয়াদ সোমবার ঐ আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় এই জিডি করেন।
এই ঘটনার পর গত ২৪ ডিসেম্বর-২৩ কেশবপুরের কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রদানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
এব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল আলম বলেন,সাংবাদিককে হুমকীর ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হবে।

