প্রেসনোট: গত ২২ জানুয়ারি সোমবার আনুমানিক ভোর ০৫৩০ ঘটিকায় বিজিবি’র যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর ধান্যখোলা বিওপি’র জেলেপাড়া পোস্ট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে কতিপয় চোরাকারবারী ভারত থেকে গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে আসতে দেখলে দায়িত্বরত বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদলের সদস্য সিপাহী মোঃ রইশুদ্দীন চোরাকারবারীদের পিছু ধাওয়া করতে করতে ঘন কুয়াশার কারণে দলবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, সে বিএসএফের গুলিতে আহত হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করা হয় এবং জানা যায়, ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উক্ত সৈনিক মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)। এ বিষয়ে বিএসএফকে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করা হয়।
পরবর্তীতে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বুধবার সকাল ৯ টায় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবি’র যশোর ব্যাটালিয়নের শিকারপুর বিওপিতে বিজিবি সৈনিক মোঃ রইশুদ্দীনের মরদেহ বিজিবি কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে।
পরে যশোর ব্যাটালিয়ন সদরে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান, বিজিবিএম, বিএএম, এনডিসি, পিএসসি অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিজিবি মহাপরিচালক নিহত বিজিবি সদস্য মোঃ রইশুদ্দীনের কর্মস্থল ধান্যখোলা বিওপি এবং তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
যশোর ব্যাটালিয়নে জানাজা শেষে বিজিবি’র হেলিকপ্টার যোগে রইশুদ্দীনের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযোগ্য মর্যাদায় তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, বিজিবি সৈনিক মোঃ রইশুদ্দীন একজন একনিষ্ঠ, সৎ, দায়িত্বশীল ও সুদক্ষ সদস্য ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা বিজিবি পরিবার অত্যন্ত শোকাহত। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

