নোশরাত জামান:মাত্র দুই হাত রাস্তার জন্য যশোরের সিটি কলেজ পাড়ার প্রায় ১০হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ।
নিরুপায় হয়ে রোববার তারা মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
সকাল সাড়ে ১১টায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শেখ রাসেল স্মৃতি সড়কে এ মানববন্ধন করা হয়। মানব বন্ধন থেকে জনস্বার্থে শেখ রাসেল স্মৃতি সড়ক দ্রুত প্রশস্ত করনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, নীলগঞ্জ সিটি কলেজপাড়ায় তারা প্রায় ১০হাজার লোক বসবাস করছে। তার মধ্যে ৫ শতাধিক ছেলে-মেয়ে এই পথ দিয়ে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা করে। সকলের চলাচলের এই রাস্তাটি একমাত্র মাধ্যম।
রাস্তাটির দক্ষিন অংশ সরু হওয়ায় পৌর সভার কোন পরিছন্ন গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না, ফলে এলাকা ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া কেউ অসুস্থ্য হলে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অগ্নি কান্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিস বা অন্যান্য গাড়ি এই রাস্তায় আসতে পারে না।
যে কারণে তাদের প্রাণহানির মারাত্নক ঝুকি নিয়ে বসবাস করতে হয়। অথচ সরকার নাগরিক সুবিধা জনসাধারণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে নিয়েছে কতরকম ব্যবস্থা। আমরা যদি পদ্মা সেতুর কথা বলি, জনসাধারণের চলাচল সহজতর বা সুবিধা নিশ্চিত করতে খোদ রাজধানীর বুকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো কত বড় বড় অট্টলিকা কত প্রতিষ্ঠান তার কোন ইয়াত্ত নেই। চোখের সামনে এত কিছু হলেও মাত্র দু’হাত জায়গার জন্য কেন এতগুলো মানুষের জীবন ঝুকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে। আগে প্রজা না আগে রাজ্য। যদি প্রজাই না থাকে তা হলে রাজ্য চালাবেন কাদের নিয়ে।
মানব বন্ধনে অংশ গ্রহণকারী ওই এলাকার বাসিন্ধা ভুপল দাস গুপ্ত জানান, সার্ভিয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ না করে সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাচীর নির্মাণ করায় রাস্তাটি সরু হয়ে গিয়েছে। রাস্তার মূল প্রবেশ মুখে দক্ষিনাংশে মাত্র দুই হাত জায়গা সরিয়ে প্রাচীর করলে এলাকার মানুষের চলাচলে কোন অসুবিধা হবে না। বিষয়টি তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য জেলা প্রশাসক এবং সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। কিন্ত এখনও পর্যন্ত কোন সুরাহ হয়নি।
মানববন্ধনে দীপিকা রায়, সুফল কুন্ডু, বাবু রায় ও নিরঞ্জন লস্কর বলেন, কলেজের দুজন শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করছেন। তারা বলছেন কলেজের জমি ছাড়ব কেন। আসলে কলেজের জমিতো কেউ চাচেছ না। কলেজের জমি কলেজের নামেই থাকছে। শুধু দু’হাত জায়গা সরিয়ে প্রাচীর করলে জীবন মরণ সমস্য থেকে রক্ষা পাবে এলাকার মানুষ। এটা জনগুরুত্বপুর্ণ মানবিক বিষয়। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখবেন বলে তারা আশা করেন।

