শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভোমরা স্থলবন্দররে ভারতীয় ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা

আরো খবর

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারতীয় আমদানিজাত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বিকালে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেয়। এসময় চাঁদা আদায় কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের এক কর্মচারীর কাছ থেকে কিছু ভারতীয় রূপি উদ্ধার করা হয়। গত বছর জুন মাস থেকে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নামে ট্রাকপ্রতি দুইশো রুপি হারে চাঁদা আদায় শুরু হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমা ালের সম্ভাবনাময় ভোমরা স্থল বন্দরে বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট ছিল। কিন্তু গত গতবছর ৩০ মে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের স্মারক নং সম্বলিত চিঠি দিয়ে ভারতীয় আমদানিজাত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে দুইশো রুপি হারে চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ধরনের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ভোমরার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট এসোসিয়েশন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করে। গতবছর ২১ জুন তারিখ থেকে বন্দরের জিরো পয়েন্টে বসে ভারতীয় ট্রাক থেকে দুইশো রুপি হারে চাঁদা আদায় শুরু করলে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা প্রায় তিন ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যহত হয়। একপর্যায়ে আমদানীকারকরা ট্রাকপ্রতি দুইশো রুপি হারে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় ঘোজাডাঙ্গা বসিরহাট ট্রান্সপোর্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে ভোমরা স্থলবন্দরে চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করে।
ভোমরাস্থ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সমিতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরা সদর আসনের নবাগত সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু ভোমরা স্থল বন্দরের অনিয়ম, দূর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জঞ্জালমুক্ত করার ঘোষণা দিলে সাধারন ব্যবসায়ীরা কিছুটা মনোবল ফিরে পায়। যার ফলশ্রুতিতে বুধবার বিকালে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম, ওহিদুল ইসলাম, সাবেক আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সাধারন ব্যবসায়ীরা বন্দরের জিরো পয়েন্টে গিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কর্মচারীকে চাঁদা আদায় করতে নিষেধ করেন। কিছু সময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করে চলে আসেন।
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দেলোয়ার রাজু জানান, সংগঠনের সিন্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয় ট্রাকপ্রতি কিছু টাকা তোলা হতো। তবে সেই টাকা কেউ আত্মসাত করেননি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ