বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরের ভালুকঘর মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগে কোন ছাত্র না থাকলেও শিক্ষক আছে ৪ জন।গতবছর এ শাখা থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও দুজনই ফেল করেছে। ঐতিয্যবাহি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন হ য ব র ল অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার অভিভাবক মহল। সকলেই দুষছেন সভাপতিকে। তাদের অভিযোগ সভাপতি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার প্রতি নজর না দিয়ে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মাদ্রসার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগে চিত্ত রঞ্জন মন্ডল, মোস্তফা মহসীন, মমতা রাণী এবং কামাল হোসেন কর্মরত আছেন।এর মধ্যে চিত্ত রঞ্জন মন্ডল তিন বছর আগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। অপর তিনজন ছিলেন প্রভাষক। গতবছর তারা পদোন্নতি পেয়ে সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন।গভর্ণিং বডির বর্তমান সভাপতি তাদের উচ্চতর স্কেলের সুপারিশ করেন।
সহযোগী অধ্যাপকদের বেতন গ্রেড ৬। অর্থাৎ তারা প্রত্যেকে মাসে সরকারি অনুদান পান প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে। সেই হিসেবে ৪ জন শিক্ষকের পিছনে বছরে ব্যয় হয় ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। আলিম ১ম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে দুজন শিক্ষার্থী পড়াতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দু’বছরে এত টাকা নিয়েও দুজন শিক্ষার্থীকে বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করার মত উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারেননি তারা। যে কারণে এবছর আলিম ১ম বর্ষে কোন ছাত্র ভর্তি হয়নি। ফলে বিজ্ঞান শাখার খালি চেয়ার বেঞ্চ চৌকি দিয়ে তারা ক্লাশের সময় পার করছেন। যা নিয়ে এলাকার অভিভাবক মহলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এবিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার গাজী জানান, এর আগে এত খারপ রেজাল্ট কখনও হয়নি। যে কারণে কোন অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের এ মাদ্রসায় পড়াতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, সবকিছুর নাটের গুরু কামাল হোসেন। তার কারনেই মাদ্রসার শিক্ষার মান এখন তলানিতে। অথচ এই মাদ্রাসা একদিন উজেলায় সেরা ছিল।
গভর্ণিং বডির দাতা সদস্য ইব্রাহীম হোসেন মোল্যা বলেন, তার জানামতে এপর্যন্ত যতগুলো মিটিং হয়েছে সবগুলো ছিল নিয়োগ সংক্রান্ত। একাডেমিক বিষয়ে এজেন্ডা দিয়ে কোন মিটিং আহবান করা হয়নি। সভাপতি একবার মাত্র প্রতিষ্ঠানে গিয়েছেন। দু একটি সভা তার অফিসে হয়েছে। অন্য সভাগুলো তিনি রেজুলেশন লিখে তলপিবাহক সদস্যদের নিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন।
ইব্রাহীম হোসেন মোল্যা আরো বলেন, গভর্ণিং বডি গঠনের শুরুতে নানা বিতর্ক এবং প্রশ্নের সৃস্টি হয়। নির্বাচিত সদস্যরা সভাপতিকে অবৈধ দাবি করে ইসলামি আরবি বিশ্ব বিদ্যালয়ে অভিযোগ করেন। যার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন তিনি। তিনি শুনানী না করে নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত নিজেই এক তরফা রিপোর্ট দিয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি হয়েছেন। আর এ প্রক্রিয়ায় তাকে পুরোমাত্রায় সহযোগিতা করেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কামাল হোসেন। যাকে প্রায়ই তার অফিসে ঘুর ঘুর করতে দেখা যায়।
এব্যাপরে অভিভাবক সদস্য হায়দার আলী বলেন, সভাপতির কারণে প্রতিষ্ঠানে আজ এই অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। যদি তিনি শিক্ষার প্রতি আন্তরিক হতেন তা হলে অভিভাবক সদস্যসহ সকলকে নিয়ে সভা করতেন। কিন্ত তিনি তা না করে প্রশাসনিক পাওয়ার খাটিয়ে যা খুশি তাই করছেন। এমনকি তাদের শোকজ নোটিশও দিয়েছেন। অথচ যেসব শিক্ষকরা সরকারের কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে পাঠ দান করছেন না। তাদেরকে করছেন জামাই আদর। কেন মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে দুজনই ফেল করল সে বিষয়ে তিনি কিন্ত কোন শোকজ দেননি। এর মাধ্যমে আমরা বুঝে গিয়েছি তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সঠিক ট্রাকে নেই। লেখা পড়া হোক আর না হোক কর্মচারী নিয়োগ তার কছে মুখ্য বিষয়।
হায়দার আলী বলেন আমরা বিভিন্ন মাধমে জানতে পেরেছি এ যাবত তিনি যতগুলো স্থানে কাজ করেছেন। সেখানে কোন না কোন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
এব্যাপরে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এডিসি শিক্ষা ও আই সিটির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি উত্তোরণের জন্য আমরা কাজ করছি। সম্প্রতি অভিভাবক সমাবেশও করেছি।

