শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরের ভালুকঘর মাদ্রাসায় নিয়োগ কেলেংকারী নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি:কেশবপুরের ভালুকঘর মাদ্রাসায় নিয়োগ কেলেংকারী নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেরিয়ে আসছে নানা অভিযোগ। পাতানো নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে স্থানীয় এমপির সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে পাতানো নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন গভর্ণিং বডির দাতা ও অভিভাক সদস্যরা। একই দাবি জানিয়েছেন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারা বৈধ প্রার্থীরাও। প্রজন্ম একাত্তরের সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন অবিলম্বে পাতানো নিয়োগ বোর্ড বাতিল করা না হলে তারা আন্দোলনে মাঠে নামবেন।
মাদ্রাসার দাতা সদস্য ইব্রাহীম হোসেন মোল্যা বলেন, পাতানো বোর্ড করে অযোগ্যদের নিয়োগ দিয়ে অর্ধকোটি টাকা বানিজ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ পদে যে তিন জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন তারা হচ্ছেন ভালুকঘর মাদ্রসার সহকারী অধ্যাপক মাছিহুর রহমান, তালা ফাযিল মাদ্রসায় অধ্যক্ষ আবুল ফজল নুরুল্লাহ এবং অপর প্রার্থী ফখরুল ইসলাম জালঝাড়া ফাযিল মাদ্রসায় সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে মাছিহুর রহমানের জেনারেল লাইনের কোন সার্টিফিকেট নেই। তিনি কেবল মাত্র মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেছেন। তার একটি তৃতীয় শ্রেণিও রয়েছে। কোন ফাস্ট ক্লাশ নেই এবং প্রশাসনিক কোন দক্ষতাও নেই। অথচ অপর দুই প্রার্থী মাদ্রসা এবং জেনারেল দুই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেনিতে এম এ পাশ। তাদের মধ্যে দ্বিতীয়জনতো অধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন।

ইব্রাহীম হোসেন বলেন, নিয়োগ বোর্ডে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হয়। তার মধ্যে লিখিত ৩০, সাফিকেট ১২ এবং মৌখিক ৮ নম্বর। মাছিহুর রহমানের সার্টিফিকের নম্বর ৭,ফকরুল ইসলামের ১২ এবং আবুল ফজলের ১০ নম্বর পেয়েছেন। একাডেমিক এবং প্রশাসনিক দিক থেকে সর্বনিম্ন স্কোরে থাকা মাছিহুর রহমান কিভাবে প্রথম হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি পাতানো বোর্ড করে তাকে প্রথম বানিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা তদন্তে প্রমান মিলবে।

অপর দুইটি পদে একই পন্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে তার দাবি। তিনি বলেন, পাতানো বোর্ড হবে এমন আভাস পেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে নিয়োগ তারই পেয়েছেন। পাতানো বোর্ডের এর থেকে বড় উদাহারণ আর হতে পারে না।

ইব্রাহীম হোসেন বলেন ল্যাব সহকারী পদে ৩ জনকে টিকানো হয়। তাদের মধ্যে মোবাশে^র নামে একজন প্রার্থী পাতানোর বোর্ডের খবর পেয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বাড়ি চলে যান। সন্ধ্যায় তাকে হুমকি দিয়ে ডেকে এনে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে পাশ করানো হয়েছে।মোবাশ্বের হোসেনের মোটরসাইকেল ভাড়া তারা দিয়েদিয়েছেন বলে জানা গেছে। মোবাশ্বের হোসেন কেশবপুর পাইলট বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। পাতানো বোর্ডের আরো তথ্য প্রমাণ তার হাতে আছে বলে দাবি করেন ইব্রাহীম হোসেন।

এদিকে পাতানো বোর্ড বসিয়ে অর্থ বানিজ্য করায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক সানা বলেন, এই নিয়োগ বানিজ্য করে আমাদের এমপি’র সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের পর তিনি(এমপি) ঘোষনা দিয়েছিলেন ” আজ থেকে কেশবপুরে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্য হবে না”। কিন্ত আমরা দেখলাম পুর্বের সেই চক্রের মদদে নিয়োগ বানিজ্য করে স্বচ্চতার দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করা হলো। তিনি ধিক্কার জানিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয়া হলে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তীব্র আন্দোলনে মাঠে নামতে বাদ্য হবে বলে তিনি জানান।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা প্রার্থী মনিরুজ্জামান জানান, গোপনে বোর্ড বসিয়ে তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তারা কোনভাবে ওই বোর্ড মেনে নেবেন না। তিনি প্রশ্নবিদ্য নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানান।

শুক্রবার ৮ মার্র্চ যশোরের এডিসি শিক্ষা ও আইসিটির কার্যালয়ে নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হয়। ওই দিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ,ল্যাব সহকারী এবং নৈশ প্রহরী পদে ৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে নিয়োগ বোর্ড।এর একদিন আগে নিয়োগ স্থগীত রাখার নোটিশ জারি করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। যা দেখে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি অনন্ত ৭ জন প্রার্থী। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে মাদ্রসার গভর্ণিং বডির দাতা ও অভিভাক সদস্যদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা অবৈধ নিয়োগ বোর্ড এবং অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ