বেনাপোল প্রতিনিধি : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবসা ও স্টুডেন্ট ভিসায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ বেড়েছে পাসপোর্ট যাত্রীদের। অর্থদ্বন্ডসহ চরম হয়রানির মুখে বিরুপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন যাত্রীরা। করোনা শিথিলের পরও কমেনি কস্ট। দু’দেশের সংশ্লিষ্ট দফতরের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। বন্ধত্ব সহমর্মিতা ও মানবতার দৃষ্টিতে চিকিৎসা ব্যাবসা ও ভ্রনন পিপাসুদের বিষয়টি বিবেচনার দাবী জানান দু দেশের নাগরিকেরা। বেনাপোল ও পেট্টাপোল সীমান্তের ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াতে সৃষ্টি হয়েছে চরম জটিলতা।আ
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান. আন্তর্জাতিক বেনাপোল পেট্টাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু‘দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত কমে গেছে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াতে বিভিন্ন শর্তারোপ করে ভারত। বর্তমানে ওমিক্রনের প্রকোপ কমলেও যাত্রীরা সড়ক পথে ভারত যেতে ভিসার আবেদন করলেও দূতাবাস দিচ্ছে আকাশ পথে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি রাজু আহমেদ জানান দিনদিন কমছে যাত্রী। আকাশপথে বাড়ছে গমন। স্থলপথে অনুমতি কম মেলায় কমছে যাত্রী।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যে বাণিজ্য ও চিকিৎসায় যাত্রী যাতায়াত চালু রয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ও যাত্রী যাতায়াত নিরুৎসাহিত করতে দেখা গেছে ভারতীয় দূতাবাসকে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের ব্যবসা, চিকিৎসা বা শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভারত যাত্রা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা,শিক্ষা আর ভ্রমণখাতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ২০ লাখ পাসপোর্ট যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতো। ভারতে করোনা সংক্রমণ দেখা দিলে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। এতে জরুরি প্রয়োজনে ভারতে যেতে না পেরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যাত্রীরা। এখনও পিছু ছাড়েনি করোনা। সময়ে সময়ে এক একটি নতুন ধরন ছড়িয়ে চলেছে। বাংলাদেশি যে সমস্ত যাত্রীরা ভারতে যান তার অধিকাংশই রোগী। বিমানে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। বর্তমানে আকাশ পথে বিমান ভাড়া ৩ গুণেরও বেশি তারপরও এক সপ্তাহের আগে মিলছে না কোনো টিকিট। এতে করে জরুরি প্রয়োজনে সময় মতো যাতায়াত করতে না পেরে চিকিৎসা ও ব্যবসাখাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসে প্রতিদিন যাত্রী যাতায়াত ছিল প্রায় দুই হাজারের মতো। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজারের নীচে।
সোমবার সকাল থেকে সারাদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৬৪২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। আর ভারত থেকে এসেছে ৪২৭ জন। ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার রয়েছে বেনাপোল বন্দরে।
যশোরের শামছুর রহমান বলেন, আমি ভারতে চিকিৎসার জন্য বেনাপোল দিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করলেও আমাকে বিমান পথে ভিসা দিয়েছে। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এখন ঢাকা হয়ে চেন্নাই যেতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বেসরকারি একটি বিমানে টিকিট পেয়েছি। এতে অর্থের অপচয়সহ ভোগান্তিও বেড়েছে।
ভারতযাত্রী শাহ জালাল বলেন, একবার ভারতে যেতে দুই বার করোনা পরীক্ষা করাতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বেড়েছে নানা ভোগান্তিও। পরীক্ষা খরচ কমালে সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হতেন।
বিজনেস ভিসায় ভারতগামী ঢাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ব্যবসায়ীক কাজে মাঝে মধ্যে ভারত যেতে হয়। এখন ভারতীয় ইমিগ্রেশনের কড়াকড়িতে ইচ্ছে মত যাওয়া যাচ্ছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চিকিৎসা ভিসায় ভারত যাওয়া পাসপোর্টধারী যাত্রী অর্চনা রানী বলেন, ভিসায় সড়ক পথের আবেদন করলেও দূতাবাস দিচ্ছে আকাশ পথের ভিসা। তারপরও ৪গুণ বেড়েছে বিমান ভাড়া। এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের আগে মিলছে না কোনো টিকিট। এত টাকা খরচ করে সাধারণ যাত্রীদের ভারতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশে যদি চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত থাকতো তাহলে এতো টাকা খরচ করে ভারত যাওয়ার দরকার হতো না।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে ভারত ফেরত সন্দেহভাজন যাত্রীদের করোনার র্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ১৫ দিনে ভারত ফেরত সন্দেহভাজন ৬৪ জন বাংলাদেশিকে পরীক্ষা করে ৪ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের রাখা হয়েছে যশোর ২৫০ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা রেড জোনে।
বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারনে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী যাওয়া আসার পরিমাণ অনেকাংশে কমে গেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে গড়ে প্রায় ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করত। সেটা এখন প্রতিদিন সাতশ থেকে হাজারের নিচে আসা যাওয়া করছে। অর্থ্যাৎ যাত্রী চলাচল খুবই কম।

