নিজস্ব প্রতিবেদক
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি বলেছেন, পৃথিবীতে রাজনীতি বিবর্জিত সমাজ কখনো টেকেনি। তাই টিকে থাকতে হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আরও বেশি রাজনৈতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক রাখতে হবে। রাজনৈতিক শক্তি অনুকূলে থাকলে আর সংগঠন শক্তিশালী হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।
বুধবার দুপুরে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অভিষেক উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। চারটি মূলনীতির ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্তরে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ সেই চারটি মূলনীতি থেকে সরে যায়। এরপর সাম্প্রদায়িক জঞ্জালে ভরে যায় দেশ। সেই জঞ্জাল আজো পুরোপুরি অপসারণ হয়নি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরেছে বাংলাদেশ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে। এমনকি শতভাগ মুসলিম অধ্যূষিত দেশেও সংকট আছে। সেটি ইরাক, সিরিয়ার মত মধ্যপ্রাচ্যের দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়। এসবের মূলে ব্যক্তি স্বার্থ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন আমি আগে বাঙালি, তারপর মুসলমান। আমরা আগে বাঙালি, তারপর আমাদের ধর্মপরিচয়। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাস্তবায়ন হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্ট্রি সদস্য শ্যামল সরকার, নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র সুশান্ত দাস শান্ত, অভিষেক উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব শ্রাবণী সুর, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অসীম কুণ্ডু, সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কমিটির সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ।
অভিষেক অনুষ্ঠানে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পূজা পরিষদের প্রয়াত চার নেতাকে মরনোত্তর সম্মননা প্রদান করা হয়। একই সাথে অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।#
