শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মুল্লুক চাঁদের চালের আড়তে ইঞ্জিনিয়ার হত্যা, ৯ জনের নামে মামলা. আটক-১

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে চালের আড়তে প্রকৌশলী বায়োজিদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ ৯জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ওই মামলায় মুল্লুক চাদের চালের আড়তের কর্মচারি হাফিজুর রহমান খোকাকে আটক করেছে। মুল্লুক চাদ ও তার ভাই সঞ্জুয় চৌধুরীর নির্দেশে এবং তাদের উপস্থিতিতে খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক বিপ্লবের মাধ্যমে বায়েজিদকে বাড়ি থেকে ধরে এনে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে কর্মচারি হাফিজুর রহমান খোকা।

গত ২৫ মার্চ রাতে নিহতের মা খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার হাজী ইসমাইল লিংক রোডের মৃত নজরুল ইসলাম সিকদারের স্ত্রী দিলরুবা বেগম কোতোয়ালি থানায় এই মামলাটি করেছেন।

আটক আসামি হাফিজুর রহমান খোকা মণিরামপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

এই মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলেন, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি মৃত চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়নের দুই ছেলে রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাদ ও সঞ্জুয় চৌধুরী, চৌধুরী কন্সস্ট্রাকশনের সাবকণ্টাক্টর শহিদুল ইসলাম, মুল্লুক চাদের চালের আড়তের রাজু, রাজন, শাহ আলম, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার সাদেক মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা, হাজী আব্দুল করিম রোডের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মহব্বত আলী মন্টু এবং মণিরামপুরের লাউড়ি গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান। হাফিজুর রহমান খোকা জানিয়েছেন, খুলনার বায়েজিদ হাসান একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।

যশোরের বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাদ ও তার ভাই সঞ্জুয় চৌধুরীর ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এমব্লকে একটি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ার বায়েজিদ হাসান সেখানে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতো। বায়েজিদ হাসান ও তার স্ত্রী তাকিয়া তুজ সাদিয়া সেখানেই বসবাস করতো। গত ১৫ মার্চ তারা স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে আসে।

২৪ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মুল্লুক চাদের কর্মচারি শহিদুল ইসলাম, রাজু ও রাজনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জন বায়েজিদের বাড়িতে যান। সেখান বলা হয়েছে খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন বায়েজিদকে নিয়ে যেতে বলেছে। তাকে নিয়ে মণিরামপুর হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শহরের কাসারী পট্টির মুল্লুক চাদের চালের আড়তে যায়। আড়তে পৌছানো মাত্র মুল্লুক চাদ ও তার ভাই সঞ্জয় চৌধুরীর নির্দেশে বায়েজিদের হাত-পা বেধে ফেলে কর্মচারিরা।

এরপরে মুল্লুক চাদ, সঞ্জয়, শহিদুল, রাজু, রাজন, শাহ আলম, জসিম, মহব্বত আলী মন্টু মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরো কয়েকজনে কুড়ালের আছাড়ি দিয়ে বায়েজিদকে এলোপাতাড়ি মারপিট করা হয়। তাদের মারপিটে নিস্তেজ হয়ে পড়লে মুল্লুক চাদ পরিচয় দিয়ে বায়েজিদের মায়ের কাছে মোবাইল করে। এসময় বায়েজিদের কাছে ৫ লাখ টাকা পাওনা আছে এবং সেই টাকা পরিশোধ করে তাকে ছাড়িয়ে নিতে বলা হয়। আর টাকা না দিলে তাকে মারপিট অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

এরপরে মুল্লুক চাদের ফোনে বায়েজিদের সাথে কথা বলে তার মা। এসময় বায়েজিদ বলছে মা আমাকে ওরা মেরে ফেলছে। এরপরে কান্না জড়িত কণ্ঠে মুল্লুক চাদের কাছে তার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও শেষ রক্ষা হলোনা। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ বায়েজিদকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন হাসপাতালে এসে তার লাশ সনাক্ত করেন বায়েজিদের মা।

এই ঘটনায় ২৫ মার্চ রাতে ৯ জনের নাম উল্লখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন বায়েজিদের মা দিলরুবা বেগম। পুলিশ ওই মামলায় হাফিজুর রহমান খোকাকে আটক করে। ২৬ মার্চ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে নিজে জড়িত এবং মুল্লুক চাদ ও সঞ্জয়ের নির্দেশে হত্যাকান্ড- ঘটানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই শরীফ আলমামুন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ