নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন ও জোর করে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার জোর করে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে দেওয়ায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ৩ সন্তানের জননী ফেরদৌসী খাতুন।
পরিবার তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ফেরদৌসী সদরের উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের ইমান আলীর মেয়ে। তার স্বামী আমির হোসেন মিনর শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিমান বন্দরের সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত আছেন।
ফেরদৌসীর পিতা ইমান আলী জানিয়েছেন, ১৮ বছর আগে আমির হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে ফেরদৌসীর বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ বছর পরে শ্বশুর বাড়ির লোকজন অভিযুক্ত আমিরকে চাকরি পায়িয়ে দেন। আমির হোসেন বর্তমানে ঢাকা বিমান বন্দরে সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত থাকায় তার স্ত্রী ফেরদৌসীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ফেরদৌসী তিন সন্তানের জননী।
বেশ কয়েক বছর ধরে আমির হোসেন পরনারীতে আসক্ত হয়ে তার মেয়ে ও নাতি-পুতি‘র উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। ৭ মাস আগে আমির হোসেন ফেরদৌসীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন।
ফেরদৌসী দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় আমির হোসেন তাকে মারপিট করে জোর করে বিষাক্ত পয়জন খায়িয়ে দেয়। মায়ের অবস্থা খারাপ দেখে ১৪ বছর বয়সী তার বড় মেয়ে মাশরুপা জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগীতা চায়। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগীতায় স্থানীয়দের মাধ্যামে ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখান আজমপুরের মঙ্গলবার আর্ক হাসপাতাল লিমিটেড নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ওই হাসপাতাল তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে বুধবার সকালে আমির হোসেন তার শ্বশুরকে বিষয়টি জানিয়ে চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার ওই হাসপাতালে যান। মেয়ের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালের ৩০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করে মেয়ের ছাড়পত্র নিয়ে বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমির হোসেন তার তিন ছেলে-মেয়েকে মায়ের জোর পূর্বক আটকে রেখেছে এবং সাথে আসতে দেননি।
এ বিষয়ে ঢাকার আর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই রোগি আমাদের কাছে ভর্তি হয়েছিল এটা সঠিক। তবে আমরা শুধু তাকে ওয়াশ করে ঢাকায় রেফার্ড করে দিয়েছিলাম।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আমির হোসেন মনির বলেন, আমি তাকে মাত্র একটা চড় মেরেছি এবং জোর করে কোন ঘুমের ওষুধ খাওয়াইনি। শশুরের কাছে মেয়ের চিকিৎসা খরচের টাকা চেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, টাকা চেয়েছি তবে একলাখ টাকা না। মাসের শেষে হওয়ার কারণে আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি খরচ চেয়েছিলাম।
এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আমাদের এখানে পয়েজনিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে ওই রোগী ভর্তি হয়েছে। তার অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে পরিপূর্ণ সুস্থ্য হতে সময় লাগবে। এখন আপাতত স্যালাইন চলবে, তাকে কোন খাবার দেওয়া যাবে না।

