শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় নারী কেলেংকারীর অভিযোগ

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরে কোমল কুমার মল্লিক (৪০) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে ভালুকঘর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শুধু তাই নয়! শিক্ষক কোমলের কথাবার্তা লেখা চিঠি এবং মুঠোফোনে উভয়ের কথোপকথন রেকর্ডের কথা জানাজানির পর স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন।

শুক্রবার রাতে উপজেলার সরাফপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনা উল্লেখ করে গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে শিক্ষক কোমলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এছাড়াও ওই গৃহবধুর শশুর সেলাই রেঞ্জ দিয়ে শিক্ষক কোমলের মাথায় আঘাত করায় গুরুত্বর আহত হয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

থানার অভিযোগ, পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরাফপুর গ্রামের এক গৃহবধূর স্বামী ইট ভাটায় কাজ করার সুবাদে বেশির ভাগ সময় বাড়িতে থাকেনা। সেই সুযোগে একই গ্রামের মৃত নরেন্দ্র নাথ মল্লিকের ছেলে শিক্ষক কোমল কুমার মল্লিক (৪০) প্রায় দুই মাস আগে থেকেই ওই গৃহবধূর বিভিন্নভাবে উত্যাক্ত, কু-প্রস্তাব এবং নানা প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে আসছে।

কোমলের প্রস্তাবে ওই গৃহবধূ সাড়া না দেওয়ায় তার সুখের সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মে রাতে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকায় শিক্ষক কোমল বসতঘরের বারান্দায় উঠে ওই গৃহবধূর হাত ধরে টানাহেঁচড়া এবং জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। ওইসময় গৃহবধূর ডাকচিৎকারে তার শ্বাশুড়ী নিহার ভানু (৫৫) ছুটে আসলে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই রাতেই যেকোন সময় কোমল নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি কাঠের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতরে ফেলে দেয়। সেই চিঠিতে বিভিন্ন আপত্তিকর কথাবার্তা লেখা রয়েছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা রাতে সরেজমিনে গিয়ে ওই গৃহবধূর শশুর ভ্যানচালক আবু সামা মোড়ল সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষক কোমল আমার বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা যাওয়া করে। আমার বৌমার প্রতি তার কুনজর ছিলো সেটা ভাবতেই পারিনি। শুক্রবার রাতে বাড়িতে আসার পর বৌমাকে কুপ্রস্তাব ও হাত ধরে টানাটানির ঘটনা শুনে হতবাক। পরেরদিন সকালে বৌমার ঘরে তার লিখিত কুপ্রস্তাবের চিঠি ও ফোন আলাপের কথা শুনে স্থানীয় মেম্বারের নিকট জানানোর জন্য আমি ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই।

মেম্বারের বাড়ি পাওয়ার প্রতিমধ্যে বাবুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে সে আমার পথ গতিরোধ করে এবং চিঠি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওইসময় আমি বাধা দিলে সে আমাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আমার ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের তার ছিড়ে দেয়। পরবর্তীতে আমি ভ্যানে থাকা সেলাই রেঞ্জ বের করে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। পরে সেখান থেকে আমি চলে যাই। সে একজন পর নারীলোভী ও দুঃশ্চরিত্রহীন ব্যক্তি। এর আগেও তিনি এলাকায় এমন অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটিয়েছে।

এলাকাবাসী উৎপল কুমার মল্লিক বলেন, ওইদিন পাশ্ববর্তী কাস্তা বাজারে সন্ধ্যার পর মাস্টার কোমলসহ আমার দোকানে বসে চা পান করি। পরে ক্রিকেট খেলা দেখার কথা বলে সে চলে যায়। পরে কোথায় যায় সেটা  আমি জানিনা। একই বাজারে আমিনুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোমল মাস্টার আমার বন্ধু হয়। শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও সে তার স্বভাব চরিত্র পরিবর্তন করতে পারলোনা। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও এলাকাবাসীর অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে কোমল মাস্টার লেখা চিঠি ও গৃহবধূর ফোন আলাপের কল রেকর্ড এলাকায় জড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে, মাস্টারের চরিত্র মোটেই ভালো না। এর আগেও তার ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভালুকঘর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কোমল কুমার মল্লিক বলেন, ওই গৃহবধূর সাথে আমার কোন ধরনের সম্পর্ক নেই।আমার হাতের লেখা যে চিঠির কথা বলছে, সেটা আমার লেখা না। সমাজে মানসম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য সে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ এনে আমাকে মারপিট করেছে। ওই গৃহবধূর সাথে আমার ফোন আলাপের কল রেকর্ড তারা জোরপূর্বক করে নিয়েছে।

এবিষয়ে ভালুকঘর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক কানাই লাল ভট্টাচার্য বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল আলম বলেন, গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও হাত ধরে টানাটানির ঘটনায় ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী শিক্ষক কোমলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ