শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বুধবার যশোর সদর উপজেলায় ভোট, নিরাপত্তার চাদরে ২১৯ কেন্দ্র

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:বুধবার যশোর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে গোটা উপজেলা নিরাপত্তার চাদরে মোড়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন ও পৌর সভার ২১৯ টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হবে।

সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষে আজ বুধবার সদর উপজেলায় সরকারি ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলায় মোট ভোটার ৬লাখ ৭ হাজার ৭৪২ জন।

এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩০, মহিলা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫২ এবং হিজড়া ভোটার ৭ জন। এছাড়া ভোট গ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ২১৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৭৫৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩ হাজার ৫১২ জন পোলিং অফিসার।
অবাধ সুষ্ট এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণের জন্য গোটা নির্বাচনী এলাকায় ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তত রাখা হয়েছে ভ্রম্যমান আদালতের ১৫ টি টিম। এছাড়াও নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশ, আনসারসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণের আয়োজন করতে প্রশাসন নানামুখী তৎপর হলেও শংকা রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। কারণ প্রার্থীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের। তাই সবাই ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপির ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে কেউ আনতে চাইবে; আবার কেউ ভোট দিতে যেতে নিষেধ করলে সংঘাত-রক্তপাত হতে পারে।
এপ্রতিবেদেকের সাথে আলাপকালে কয়েকজন ভোটার বলন, ভোটের পরিবেশ যদি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকে তাহলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন তারা।

যশোরের অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুর রশীদ জানান, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ৭টি উপজেলায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত পরিবেশের সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ৫ জুন এ উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হবে।
জেলার সর্বশেষ এই নির্বাচনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন। চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী আনারস, তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু মোটরসাইকেল, আনোয়ার হোসেন বিপুল দোয়াত কলম, ফাতেমা আনোয়ার ঘোড়া, মোহিত কুমার নাথ শালিক, শাহারুল ইসলাম জোড়া ফুল, শফিকুল ইসলাম জুয়েল কাপ পিরিচ ও আরিফুল ইসলাম হীরা হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুলতান মাহমুদ বিপুল (টিউবওয়েল), শেখ জাহিদুর রহমান লাবু (বৈদ্যুতিক বাল্ব), শাহাজান কবির শিপলু (চশমা), কামাল খান পর্বত (তালা) ও মনিরুজ্জামান (উড়োজাহাজ) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সেই সাথে ছুটছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না আরা মিলি (কলস), বাশিনূর নাহার ঝুমুর (ফুটবল) এবং শিল্পী খাতুন হাঁস প্রতীক নিয়ে।

নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে সেজেছে পৌর সভাসহ ১৫ টি ইউনিয়ন। ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে স্মরণকালে বড় চ্যালেজিং বলে মনে করছেন রাজনৈকিত বিশ্লেষকরা।

এদিকে সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততই সর্বমহলের দৃস্টি নিবদ্ধ হচ্ছে সদর উপজেলার দিকে। কে পরবে বিজয়ের মালা সেই অপেক্ষায় চেয়ে আছে সদর উপজেলার ৬ লক্ষাধিক ভোটার।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ