শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে আইনজীবীকে মারপিট পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে আইনজীবীকে মারপিটের ঘটনায় পল্টা-পাল্টি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির-১ নম্বর ভবনের সামনে আইনজীবীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করা হয়। অপরদিকে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এদিকে মারপিটের ঘটনা উল্লেখ করে আদালতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-২ এর পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। মামলার অপর আসামি শহরের ঘোপ এলাকার শাহীন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী সৈয়দ কবীর হোসেন জনি।

সকালে প্রতিবাদ সমাবেশে আইনজীবীরা বক্তব্যে বলেন, একজন আইন কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন উদ্ধত্য দেখিয়েছেন। যা সকল সীমাকে অতিক্রম করেছে। এ কাজের মাধ্যমে তিনি ফৌজদারী অপরাধী হিসেবে নিজেকে শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও ব্যথিত।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যেই একজন আইন কর্র্মতাকে লাঞ্চিত করা হবে। তাকে মারপিট করা হবে। এটা কারো কাম্য নয়। এ আঘাত একজন আইনজীবীর গায়ে লাগেনি। পুরো দেশের আইনজীবীদের অস্তিত্বে আঘাত হেনেছ। এ ঘটনায় তারা দোষী ব্যক্তির সুষ্ট বিচার চান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এম. ইদ্রিস আলী, সিনিয়র আইনজীবী নজরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু মোর্তজা ছোট। মানববন্ধন পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সনম্পাদক জুলফিকার আলী জুলু। উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম, সেতারা বেগম, সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা, নজরুল ইসলাম বকুল, আমিনুর রহমান হিরু, সৈয়দ কবীর হোসেন জনি প্রমুখ। পরে ঘটনা উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে কোতয়ায়ালি থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন নিজেই জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে যান । এসময় তিনি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ ছোড়েন। পরে তিনি যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতম দমন ট্রাইবুন্যাল-২ এর পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন দাবি করেন, তার ছয়জন কর্মীকে মারপিট করা হয়েছে । তিনি বলেন, ঈদের সময় ফুটপাত উচ্ছেদ করে পুলিশ। এসময় শহিদুল ইসলাম মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলসহ আরোও কয়েকজন পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে সেখানে হকারদের বসার অনুমতি আনেন। কিন্তু পরবর্তিতে মুকুলের নেতুত্বে একটি চক্র ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা শুরু করে। সম্মেলনে তার সাথে থাকা শাহীন নামে এক যুবককে তিনি ফুটপাতে ব্যবসায় বসতে চান। শাহীন ফুটপাতে দোকান বসাতে গেলে তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়।

পরবর্তিতে বিষয়টি পুলিশ ফাঁড়িতে মিমাংসার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু শাহীনকে ডেকে মুকুল চক্রের সদস্যরা মারপিট করে। যা জানতে পেরেই তিনি ফাঁড়িতে গিয়েছিলেন। এসময় তার সাথে অ্যাড. মুকুলের মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরও বলেন, মুলত একজন জনপ্রতিনিধির উস্কানিতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনে ওই জনপ্রতিনিধির প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় তিনি এ ধরণের কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছেন। মুকুলচক্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে, মামলাও হতে পারে। এসবে তিনি ভয় করেন না। তিনি কাউকেই চাঁদা তুলতে দেবেন না। এমনকি ফুটপাতে কোনো দোকানও বসাতে দেবেন না। এসব বিষয় নিয়ে তিনি ডিসির কাছে যাবেন। তার লোকজন নিয়ে প্রয়োজনে কালেক্টরেট চত্বরে অনশনে নামবেন বলে আল্টিমেটাম দেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম মিলনের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মুন্সি মহিউদ্দীন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হারুণ অর রশিদ, আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ খান, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর তুহিন, পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর কবীর সুমনসহ আওয়ামীল, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ