বেনাপোল প্রতিনিধি :
ওদের ঘর আছে,বাড়ি আছে, আছে পরিবারও।তারাও চাই পরিবার ও পরিজন নিয়ে ঈদ করতে। রুটিরুজির সন্ধানে পন্যবাহি ট্রাক নিয়ে ওরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে বাংলাদেশে। আজ ঈদের ছুটিতে বন্দরে আটকা পড়ে পরিবার থেকে রয়েছে বিচ্ছিন্ন। পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। খেযে না খেয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের।তারা হলো ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার।
ভিন দেশের বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকিয়ে বেরুতে না পারায় ধর্মীয় উৎসবে পরিবারের সাথে শামিল হতে পারে না অনেকে।এটাকে তারা নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়। আবার বন্ধের সময়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি অনিয়ম ও দুর্ভোগে পড়েন তারা। ওদের থাকা খাওয়ার ব্যাপারটাও একেবারে ভিন্ন।নিজেদের রান্না নিজেরাই করে থাকে।প্রতিটি ট্রাকে থাকে রান্নার সরঞ্জাম।যখন বিশ্রামের প্রয়োজন তখনই ট্রাক রেখে করে নাওয়া খাওয়ার আয়োজন। তাতে এক বেলা খাওয়ার যোগান করলেও আরেক বেলা কাটাতে হয় না খেয়ে।
এ ভাবেই ওদের কেটে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। তবে নিজ দেশ থেকে ভিন দেশে আসার পর ওদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পরিবার পরিজনের সঙ্গে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।এসময় ওদের কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যায়। ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা ট্রাকের চালক ও তাদের সহকারিরা বলেন মন কষ্টসহ বন্দরের বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা বলেন ভুক্তভোগী ভারতীয় ট্রাক চালকরা
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল।এই বন্দরে প্রায় প্রতিদিনই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের চার’শ থেকে পাঁচ’শ ট্রাক নানা ধরনের পণ্য আসে। এসব ভারতীয় ট্রাক চালকরা প্রতিদিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাঁচামাল,গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে খাদ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আসে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লী,মহারাষ্ট্র, ইউপি রাজেস্থান,ইউকে,বিহার,নাগালেন্ ড,হরিয়াণা,জামশেদপুর,কুচবিহার, তামিলনাড়ু পাঞ্জাব,
পশ্চিমবাংলাসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে তারা রপ্তানিকৃত পণ্য চালান নিয়ে ঢোকে বেনাপোল বন্দরে।ভারত থেকে আসা এসব ট্রাক চালকরা বেনাপোল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসার পরই পড়েন সমস্যায়। ঈদের ছুটিতে তাদের কষ্টের যোগহয় নতুন মাত্রা। ২শতাধিক পন্যবাহি ট্রাক আটকা পড়েছে বন্দরে। রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট বাড়ে তাদের বেনাপোল বন্দরে কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা সহ বন্দর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক অ়ভিযোগের কথা জানান বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা ড্রাইভাররা। বিহারের নাজনা প্রসাদ ৪দিন আগে ম্যসিনারিজ পন্য নিয়ে এসেছে বেনাপোলে ২ ছেলে ২মেয়ে রয়েছে বাড়ীতে।
সফিকুল ইসলাম টেংরা ভারত থেকে পেপাররোল পন্যবাহি ট্রাক নিয়ে এসেছে বেনাপোলে বাড়িতে ২ কন্যা ও পরিবারের সাথে করবেন ঈদ হলো না তার। বিহারের শাহবাজ লোহাবাহি ট্রাাক ৫দিন আগে আসে বেনাপোলে। বন্ধের কারনে বাড়ী ফেরা হলোনা তার।
বেনাপোলের অব্যাবস্থাপনা রোধসহ বন্দরের শুষ্ট পরিরেশ রক্ষার দাবী জানান স্থানীয় আলী হোসেন।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেন সরকারি ছুটিতে কিছু পন্যবাহি ট্রাক আটকা পড়েছে বন্দরে। ট্রাক ড্রাইভারদের নিরাপত্তা সহ সব ধরনের সমস্যা নিরসনে সহযোগিতা দিচ্ছেন বন্দর কর্তপক্ষ। স্থলবন্দর বেনাপোল. পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে আন্তরিকতার সহিত কাজ করা হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের শ্রমিকদের সমস্যা নিরসনে আন্তরিকতার সহিত কাজ করা হচ্ছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

