শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

”চাকরি আমার ইবাদত চাকরির মাধ্যমে জান্নাতে যেতে চাই”-যশোরে নবাগত পুলিশ সুপার

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নবাগত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিপিএম বার বলেছেন, ”চাকরি ইবাদত হিসেবে নিয়েছি, চাকরির মাধ্যমে জান্নাতে যেতে চাই”। তিনি বলেন, ”আমার কবরে কেউ যাবে না”। ”কবরে আমার জবাব আমাকে দিতে হবে”। তিনি বলেন, যশোরে এসছি সত্য সুন্দর ন্যায় ও কল্যাণের জন্য কাজ করতে। বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি বীর মুক্তি যোদ্ধা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন।

শান্তিপূর্ণ সুন্দর যশোর উপহার দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার বলেন, ভালবাসার যশোর গড়তে তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী মালা তৈরি করতে চান। যশোরের ফুল যেমন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের মনকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তেমনি যশোরও যাতে এর ঘ্রাণ পায়, এখানে আরো বেশি বেশি ভাল মানুষ তৈরি করে সেই চেষ্টা করবেন তিনি।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে সকল ভাল কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান উল্লেখ করে বলেন, ছুরি চাকু, কিশোর গ্যাং, মাদক সন্ত্রাস যানজট চাঁদাবাজি চোরাকারবারী রুখতে চান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, তদবির করে যশোরে আসেননি, তিনি বদলির ভয় করেন না। দলমত বর্ণ নির্বিশেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে দৃঢ় থাকবে।
যশোরের সাংবাদিকদের জীবনাচার যশোরে প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে তিনি জানান, সাংবাদিকদের সব বক্তব্য তিনি শুধু কাগজে নোট নেননি তা হৃদয়ে ধারণ করেছেন। তিনি যশোরে যতদিনই থাকবেন, ন্যায় নিষ্ঠভাবে তার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ের সময় তিনি আরো বলেন, সমাজ কল্যাণমুখি হলে সবাই সুন্দর হবে। যশোরও সুন্দরভাবে থাকবে। এর জন্য সর্বপ্রথম তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য তার বেশি কাজে আসবে। তথ্য যাচাই করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য পুলিশের চেয়ে সাংবাদিকরা আগে পেয়ে থাকেন। তারা সমাজের আয়না। এই আয়না দিয়ে দেখে সমাজের মঙ্গলের জন্য পুলিশ কাজ করবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সাদা কালো দেখা হবে না।’

তিনি সাংবাদিকদের সাথে একমত পোষন করে জানান, যশোরে কিশোর গ্যাং-এর তৎপরতা রয়েছে। এটা শক্তহাতে দমন করা হবে। এরা সমাজের অন্য কেউ না। আপনার আমার সন্তান বা ভাই। পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করলে এই তৎপরতা রোধ করা সম্ভব। পক্ষে বিপক্ষে মতামত থাকবে। কিন্তু সঠিক কাজটা করে যেতে হবে।

যশোর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জেলা। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অপরাধ প্রবনতা থাকবে। চোরাচালান, চুরি, ছিনতাই-ডাকাতি, মাদক-অস্ত্রের কারবার, মারামারি, গন্ডগোল রোধ করতে হবে। আমি কাজ করতে চাই। আমাকে নিয়ে কোনো টেনশন নেই। আমি আপনাদের সাথে থাকতে চাই। যে কোন প্রকার তথ্য আমাকে দেয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তথ্য দাতার নাম পরিচয় গোপন রাখা হবে। আমার কাছে যে কোন নাগরিক আসতে পারবে। দরজা সব সময় খোলা থাকবে।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেছেন, আপনাদের সাথে কথা বলে যশোরের চিত্র অল্প কিছু পেয়েছি। কাজ করার সময় সব চিত্র পেয়ে যাবো। এক সাথে কাজ করলে সমাজের অসংগতি দুর করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময়ের পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সংবাদপত্র পরিষদে সাধারণ সম্পাদক দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সহসভাপতি নুর ইসলাম, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনোতোষ বসু, সাধারণ সম্পাদক এইচ আর তুহিন, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, জুয়েল মৃধা, তৌহিদ জামান, সাইফুর রহমান সাইফ, সাকিরুল কবির রিটন, কাজী আশরাফুল আজাদ, মনিরুল ইসলাম, জুয়েল মৃধা, ইন্দ্রজিৎ রায়।

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ