শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় ৭ জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পুলিশ সুপারসহ  ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী আমিনুর রহমানসহ সাতজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরার তৎকালিন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সদর সার্কেলের তৎকালিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ও সদর থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের মফিজউদ্দিন সরদারের ছেলে নিহত আমিনুর রহমানের ভাই সিরাজুল ইসলাম(৫৪) বাদি হয়ে সোমবার সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। বিচারক নয়ন কুমার বড়াল বাদির লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে (১৫৬(৩)  ধারা মতে) এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরার সাবেক পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সদর সার্কেলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার ও সম্প্রতি সাতক্ষীরা থেকে বদলী হওয়া সাবেক পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হকসহ সদর থানার চারজন উপপরিদর্শক, একজন সহকারি উপপরিদর্শক, ছয়জন কনস্টেবল, গোয়েন্দা পুলিশের তিনজন উপপরিদর্শক, আট জন কনস্টেবল ও পৌরসভার কামাননগরের আওয়ামী লীগের নেতা ইনামুল হক,ইমামুল ইসলাম রণি ও ইউসুপ সুলতান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল শহরের কামালনগরের একটি মেসে পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোঃ ইনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনার নামে তৎকালিন ছাত্র শিবিরের শহর সেক্রেটারী আমিনুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় মেসে থাকা আরো ৭ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে।
এ মামলার এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনারুল ইসলাম রনি, যুবলীগ নেতা এস. এম ইউসুফ সুলতান, ডিবি সদস্য আলি হোসেন, কামালনগর মোকছেদ সরদারের ছেলে মোঃ বাবর আলী, পুলিশের এসআই আবুল কাশেম , এসআই হুমায়ূন কবীর, এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস, এসআই ইয়াছিন আলী, এএসআই লিটন বিশ্বাস, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম (কং-১৪৫), বেলায়েত হোসেন (কং-৫৬৭), জিল্লুর রহমান (কং-৬২৫), বাবুল হোসেন (কং-৭৭১), ফারুখ হোসেন (কং-২৩৪), শেখ আলম (কং-১৯৭), এসআই আব্দুল হান্নান, এসআই হান্নান শরীফ, এস.আই আবুজার গিফারী, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান (কং-৭৪৪), রাসেল মাহমুদ (কং-৭৯৭), ওমর ফারুক (কং-১৬০), আব্দুর রহমান (কং-২৮৭), আবিদুর রহমান (কং-৪৭৩), আসাদুজ্জামান (কং-৪৭০), বদরুল আলম (কং-২০০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের মফিজউদ্দিন সরদারের ছেলে আমিনুর রহমান ২০১৪ সালে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে সাতক্ষীরা শহরের কামাননগর কবরস্থানের পাশে জনৈক মুকুল হোসেনের বাড়িতে একটি ছাত্রাবাসে থাকতো।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ভাত খাওয়া চলাকালিন তৎকালিন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরের নির্দেশে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।    ছাত্রাবাসে ঢুকে পুলিশ ছাত্রাবাসের আটজন সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। সদর থানার উপপরিদর্শক আবুল কাশেম ছাত্রাবাসে থাকা আমিনুর রহমানের পিঠের বাম দিকে গুলি করে। আমিনুর মেঝেতে পড়ে গেলে তার পায়েও গুলি করা হয়। একপর্য়ায়ে অধিক রক্তক্ষরণে আমিনুর মারা হয়। একই সময়ে পুলিশের গুলিতে মারা যায় মেসের আরও ৬জন।
ওই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব না হওয়ায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তণ হওয়ায় মামলার বিলম্বের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. তোজাম হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আমিনুর রহমানসহ ৩৬ জন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন। যেটাকে আইনের ভাষায় বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড বলা হচ্ছে। চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ও সম্প্রতি বদলী হওয়া আরেক পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের  বিচার দাবি করেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ