নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমান পদত্যাগ করেছেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বানিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দফা এক, দাবি এক অধ্যক্ষ ফসিয়ারের পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ওইসময় কেশবপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কগণ সেখানে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ২০২১ সালের ২৮ জুন কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়োগ বানিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং নিজস্ব নিয়মে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। তার এহেন কর্মকান্ডের জন্য ২১ আগস্ট সকালে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানান বিক্ষুদ্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফসিউর রহমান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বানিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলের প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ও এতিম খানার তহবিলের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার কোন হিসাব দেননি। নুরানী বিভাগের অর্থের হিসাব এবং বিভিন্ন সরকারী অনুদানের প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার কোন হিসাব গর্ভিনিং বডির সামনে দেননি। তিনি প্রতিষ্ঠানে ৫ জন সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার নিয়োগে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা, ৫ জন কর্মচারী নিয়োগে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা, এবতেদায়ী প্রধান পদে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পদে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা নিয়োগ বানিজ্য করেছেন। শুধু তাই নয়! অবৈধভাবে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬টি মেহগনি, একাশিয়া ও শিশু গাছ বিক্রির প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সাম্প্রতিক আক্তার হোসেনকে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনেকেই। এছাড়াও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বানিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: ফসিয়ার রহমান বলেন, মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের একটি কুচক্রমহল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন এবং তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরালো আন্দোলন করিয়ে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।

