শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঘেরের মাছের সাথে আমরা খাচ্ছি কী?

আরো খবর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:নদ-নদী খাল বিল মরতে থাকায় দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। আমিষের চাহিদা পুরণে ঘেরে চাষ হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। তবে এসব ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে কিসব ব্যবহার করা হচ্ছে তা অনেকে জানেন আবার অনেকে জানেননা। প্রকৃতপক্ষে ঘেরের মাছের সাথে কী মানুষ কী খাচ্ছে তা খুজতে গিয়ে বের হয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা মানবদেহে প্রবেশ করে সৃস্টি হচ্ছে নান ধরণের জটিল কঠিন রোগ। কিন্ত মৎস্য বিভাগের এদিকে কোন নজর নেই।
যশোরের অভয়নগরের ধোপাদী, সুন্দলী, ডুমুরতলা, সড়াডাঙ্গা, আড়পাড়া, আমডাঙ্গা, লক্ষীপুর, বারান্দি, ফকিরহাট, সরখোলা, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া, ধলিগাতি, ধোপাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের অনেকেই এই পরিবেশ ধ্বংসকারী পোল্ট্রি মুরগির বিষ্টা মৎস্য ঘেরে ব্যবহার করছে। গতবছর উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় আমডাঙ্গা গ্রামের মৎস্য ঘেরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রাজাপুর সড়ক থেকে অবৈধ পোল্ট্রি লিটার বহনের দায়ে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ড- ১৪-৬৯৯৭) জব্দ করা হয়। পোল্ট্রি লিটার বহনের দায়ে যশোর রেল রোডের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ট্রাক মালিক আশিক সিদ্দিকীকে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০ এর ১২/১ (ক) ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ট্রাকভর্তি পোল্ট্রি লিটার বিনষ্ট করা হয়।

মুরগি পালনে নানারকম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। যেগুলো মুরগির বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এগুলো ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঘটাতে পারে। এজন্য কয়েক বছর আগেই মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা নিষিদ্ধ করেছে সরকার কিছুদিন বন্ধ থাকার পর চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এ এলাকায় পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের উদাসীনতার কারণে পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সূত্র জানায়, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫-৭শ’ খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ হয়। ওইসব খামারে বছরে উৎপাদন হয় প্রায় হাজার টন মাছ। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় ওইসব খামারের মাছ। মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছে উপজেলার একাধিক মৎস্য চাষি। তবে মাছের খাদ্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো পুশিয়ে উঠতে পারছেন না চাষিরা। ফলে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন মৎস্য চাষিরা। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উপজেলাসহ আশপাশ এলাকার মুরগির খামার থেকে বিষ্ঠা সংগ্রহ করে আনছেন মৎস্য চাষিরা। কম দামে পাওয়া ওই বিষ্ঠা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও মাছের খাদ্য হিসেবে খামারে তা ব্যবহার করছেন তারা।

নওয়াপাড়া বাজারে নিয়মিত মাছ কেনেন শিরিনা বেগম। তিনি জানান, নদীর মাছ ছাড়া অন্য কোনো মাছ তিনি কেনেন না। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীর মাছে যে স্বাদ, চাষের মাছে সেটা পাই না। চাষের মাছে সবসময়ই কেমন যেন একটা গন্ধ থাকে। অনেকটা ঘাসের মতো। তবে চাষের মাছ কেনেন এ রকম ক্রেতারও অভাব নেই। এর বড় একটা কারণ চাষের মাছের দাম কম। একজন ক্রেতা খলিলুর রহমান বলছিলেন, অনেক সময় নদীর রুই বা কাতল মাছের যে দাম, তার অর্ধেক দামে চাষের রুই বা কাতল মাছ কিনতে পারি। কিন্তু চাষের মাছ কিনলেও মনে সবসময়ই একটা সন্দেহ থাকে যে এই মাছ কিভাবে, কোথায় চাষ হচ্ছে, মাছকে কি খাওয়াচ্ছে, এসব মাছ খেলে ক্ষতি হবে কিনা তা নিয়ে একটা ভয় থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খামারের একজন কর্মচারী জানান, ৭ বছর ধরে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করেন তারা। এতে মাছের খাবারের পেছনে ব্যয় অনেকটাই কমে যায়। তবে এভাবে বিষ্ঠা ব্যবহার করে যে মাছ চাষ নিষিদ্ধ সেটা জানেন সবাই।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ