নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শহরে পাঁচ দিনে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা এতদিন প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। অতীতে এসব স্থাপনা উচ্ছেদে পৌরসভা মাইকিং এবং নোটিশ পাঠালেও সেসময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে উচ্ছেদ করা যায়নি। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পৌরসভার নতুন প্রশাসক এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এইচএম রোডে ড্রেনের উপরে অবৈধ স্থাপনা ‘গ্রীণ টাচ্’ নামে একটি দোকান ভেঙে দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। দোকানটির মালিক যশোর সদর উপজেলার যুবলীগের সাবেক সভাপতি ওহিদুজ্জামন বাবলুর। তিনি আট বছর আগের ড্রেন দখল করে এ স্থাপনা তৈরি করেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে এসব স্থাপনা উচ্ছেদে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার, নোটিশ পাঠালেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চাপের মুখে উচ্ছেদ করা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পৌরসভার নতুন প্রশাসক এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন। অভিযানে সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় গড়ে তোলা টংদোকান থেকে শুরু করে বাদ যায়নি আওয়ামী লীগের কার্যালয়, হোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছে নগরবাসী। তারা বলছেন, সরকারি সব জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হবে। যাতে সড়কে যানজট কমে। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারি। একই সাথে ড্রেন পরিস্কার থাকলে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না বলে মনে করেন।
যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ বলেন, বিগত সময়গুলোতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বেশ কয়েক দফা শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের চিঠি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ করা হলে আবারও স্থানীয় নেতা-কর্মী বা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তারা দখল নিতেন। আবার কিছু কিছু জায়গায় দলীয় চাপের কারণে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এবার পৌরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান বলেন, পৌরসভার ড্রেনের ওপরে অবৈধ ঘর তৈরি করে পানিনিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করছেন। রাস্তার পাশে ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান দেওয়ায় শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে অভিযান চালানো হচ্ছে।

