রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পাউবোর মতবিরিময়

আরো খবর

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট গ্রামের  খোলপেটুয়া নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ী বাঁধের নির্মানকাজ পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জাইকার কর্মকর্তাবৃন্দ।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে দয়ারঘাট সুন্দরবন হ্যাচারিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৫ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪ নং পোল্ডারে আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর অব্যাহত ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেয় পাউবো।
ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনহ্যাসমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ১২৭০ মিটার বাঁধের নির্মান কাজ ২১ কোটি ৯২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৫০ টাকা অর্থ সহায়তা করে জাইকা।
 ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনটি-এমএলটি-জেভি কাজটি পেয়ে গত বছর ১৫ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বিজকন লিঃ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের ৩১ মে তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। ব্লক তৈরীর কাজও অর্ধেক হয়নি। ব্লকের কাজে অনিয়ম, মালামাল পরিবহনকালে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ করা এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করা, দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে স্থানীয়রা কয়েক দিন আগে কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রতিকার ও কাজ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করার প্রস্তাব দিলে বুধবার সুন্দরবন হ্যাচারিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনুষ্ঠিত মতবিনিময় কালে বক্তব্য রাখেন, নির্বাহী প্রকৌশলী পাউবো-২ মনিরুল ইসলাম, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম, জাইকার কনসাল্ট্যান্ট প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম, প্রজেক্ট ইঞ্জিঃ রাশেদ ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, যুবদলের আহবায়ক শরিফুল আহসান টোকন, সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ, যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুল ইসলাম, সাদিক আনোয়ার ছোট্ট, উপজেলা  জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুমি প্রমুখ।
 বক্তাগন কাজের নানা অনিয়ম, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি, শ্রমিকদের পাওনা টাকা না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে এর প্রতিকারের দাবী জানিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর কথা উত্থাপন করেন।
এসময় পাউবো কর্মকর্তাবৃন্দ প্রশ্নের জবাবে জানান, দেড় বছর আগে কাজ শুরু করা হলেও ধারা ব্যাহত হয়েছে, ব্লক নির্মানে পাথর গ্রেডেশান ঠিক ছিলনা। ৯৮ হাজার ১ শত ৯৩ টি ব্লক তৈরির কথা থাকলেও ঠিকাদার ৩৪ হাজার ৬৬৪ টি ব্লক এর কাজ করতে পেরেছেন। যার মধ্যে ৬ হাজার ৮৬৫ টি রিজেক্ট করা হয়েছে। নদীতে কাজে লাগানো হয়েছে ১৭৫৯৩ টি।
নষ্ট ব্লকগুলো পুনরায় করতে হবে এবং নষ্টগুলোর কোন বিল ঠিকাদার পাবেননা। তবে সকল ব্লক কাজে লাগানো হবে। পাওনা টাকার ব্যাপারে প্রকৃত পাওনাদারের তালিকা, কিজন্য টাকা পাবে ও টাকার অংক তৈরি করে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য জামায়াতের আমীরকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে মনোনীত করা হয়।
কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। ছোট রাস্তায় ট্রাক না ঢুকলে অন্য ব্যবস্থায় মালামাল পরিবহন করতে হবে। রাস্তা নষ্ট হওয়ায় ঠিকাদার ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে থাকলে তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তাবৃন্দ জানান। নিয়ম মেনে কাজ শুরু করা হবে ওয়াদা করে পাউবোর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় জামায়াতের আমীর বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে খোলপেটুয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে সদরের দয়ারঘাট ও জেলেখালী গ্রাম দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য জাইকা কোম্পানি যে বরাদ্দ দিয়েছে তার সদ্ব্যবহার করতে সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে চেয়ে আছে। তাই জনসাধারণের কথা বিবেচনা করে যাতে থেমে যাওয়া কাজটি পূণরায় শুরু হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ