শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আশাশুনিতে ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মৎস্য ঘের লুটপাটের অভিযোগ

আরো খবর

আশাশুনি প্রতিনিধি :
আশাশুনিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মৎস্য ঘের লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামে।
ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত মৃত সামছুল হুদার ছেলে সাবেক সেনা সদস্য তারিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে আমার ঘের সংলগ্ন আবুল হোসেনের মুদির দোকানে তার ভাই আব্দুল মান্নানের সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মান্নান আমাকে মারপিট করে।
আমার ছেলে তার  কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুরে যুবদল নেতা ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোকজন আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা দুটি বসতঘর, একটি মোটরসাইকেল, এলইডি টিভি ভাংচুর করে। এসময় তারা ঘরের শোকেস ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তাদের ঠেকাতে গিয়ে আমার মা আরেফা বেগম ও ভাতৃবধু শাহিনা খাতুন আহত হয়েছেন।
বিষয়টি সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে সেখানে ইমদাদুল সহ তাদের লোকজন মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। কিন্তু রবিবার সকালে তারা আবারও সমবেত হয়ে গুনাকরকাটি মৌজায় আমাদের ডিসিআর করা বেজিডাঙ্গার ৬ একর খালে জাল টেনে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে যাবার গ্যাস ট্যাবলেট মেরে চলে যায়। তাদের প্রকাশ্য হুমকিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান ও ইমদাদুল হক জানান, তারিকুল ইসলাম কৃষক লীগের সভাপতি। ক্ষমতার দাপটে তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সরকার পতনের পরও সে থেমে নেই। সরকারি খাল ও খাসজমি এখনও তার দখলে রয়েছে। নারী লোভী তারিকুলের ভয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় হিন্দু মুসলিম কোন সম্প্রদায়ের মেয়েরা বের হতে পারে না।
এলাকার মহিলারা অতিষ্ঠ হয়ে তার ঘরবাড়ি ভাংচুর করেছে। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। শতশত জনগন মিলে খালটি উন্মুক্ত করেছেন, আমরা এর সাথে জড়িত না। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ