সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার প্রতিবন্ধী রোজিনা খাতুন চুমকিকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে রোববার রাত একটার দিকে র্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা সদর উপজেলার থানাঘাটা গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলো, হত্যা মামলার প্রধান অসামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার থানাঘাটা হিন্দুপাড়া গ্রামের একরামুল হকের ছেলে ইলিয়াস হক (৩৫), ইলিয়াসের ছোট ভাই ইমরান হক (২৩), আবু ছালেমের স্ত্রী নারগিস পারভিন (৪০), একরামুল হকের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন (৫৫), আবু ছালেমের ছেলে শাওন (২৮) ও মৃত খন্দকার আবুল কাশেমের ছেলে আবু ছালেম (৬০)।
র্যাব সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার থানাঘাটা হিন্দুপাড়া গ্রামের ইলিয়াস হক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রোজিনা খাতুন চুমকির সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে যৌন উত্যক্ত করাসহ মাঝে মধ্যে কুপ্রস্তাব দিত। ভিকটিম আসামীর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তার পিতা মাতা ও বড় বোনকে বিষয়টি জানায়। ভিকটিম এর বড় বোন, মা ও বাবাকে সাথে নিয়ে ১নং আসামীর বাবা মা ও পরিবারকে বিষয়টি জানালেও আসামীকে নিষেধ না করে উল্টো ভিকটিম এর মা বাবা ও বড় বোনকে অপমানিত করে তাড়িয়ে দেয়।
এতে আসামী ইলিয়াস হক ভিকটিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকে। ঘটনার দিন শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভিকটিম থানাঘাটাস্থ মাধব স্বর্ণকারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছালে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে চুমকিকে আক্রমন করে। এসময় আসামী ইলিয়াস তার হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিছন থেকে ভিকটিমের মাথায় স্বজোরে কয়েকটি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় চুমকি। স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় বোন সকিনা খাতুন (৩০) বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামীদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

