তালা ( সাতক্ষীরা ) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালায় মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকায় মুক্তিযোদ্ধা জাল সনদ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তালা উপজেলা সমবয় অফিসের সহকারি পরিদর্শক অজয় ঘোষের বিরুদ্ধে। এছাড়া নিজ উপজেলায় সরকারি চাকরি করায় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা, জমি জাল দলিল করে জবর দখল, অফিসে উৎকোচ গ্রহনসহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অজয় ঘোষ তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অমল ঘোষের ছেলে ও তালা উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত আছেন।
সুত্রে জানাযায়, এই সমবায় সহকারি পরিদর্শক অজয় ঘোষ উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বসন্ত সাহার ছেলে মৃত লোলিত মোহন সাহার দুই ছেলে বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও প্রতাপ কুমার সাহার নিকট থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধার জাল সাময়িক সনদপত্র তৈরী করে দেন।
যার সার্টিফিকেট নং-১৪৮৬০। সেই জাল সনদ দাখিল করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেন দুই ভাই। তাদের মধ্যে বীরেন্দ্র নাথ সাহা ২০০৮ সালে ও প্রতাপ কুমার সাহা ২০০৯ সালে যোগদান করেন। যে সনদে চাকরি করতেন সেই সনদের মুল মালিক তারেক সৈয়দ আলি হাসান।
তিনি খুলনা সদর উপজেলার ২৩ আজিজুর রহমান সড়কের ইয়াকুব আলীর ছেলে। সম্পূর্ন অবৈধভাবে জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ তৈরি করে নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নিতে প্রতারণায় সহযোগিতা করেছেন এই অজয় ঘোষ।
এর আগে ললিত মোহন সাহা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হতে তার ছেলে জগদীশ চন্দ্র সাহা গত ২৮/১০/২০১৩ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এদিকে ললিতের এক পৌত্র সরকারি কর্মচারী ও তালার আরেক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে অজয় ঘোষের মধ্যে জাল সার্টিফিকেট প্রস্তুত করতে দরকষাকষির একটি মোবাইল কথোপকথনের অডিও বার্তা, ব্যাংক লেনদেনের তথ্যসহ নানা কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য অপকর্মের তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে অজয় ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তার কথা বলা মোবাইলের রেকর্ডটি অস্বীকার করে তিনি জানান, জাল সনদ তৈরির ব্যাপারে মোবাইলে কোন কথা হয়নি। ফোনালাপের সরাসরি অস্বীকার করলেও এক সাংবাদিকের সাথে অকপটে স্বীকার করেন।
তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডের ডেপুটি কমাণ্ডার মাষ্টার আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার জানান, ভূয়া জাল সনদে চাকরি করার সুবাদে তদন্ত করে জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাদের চাকরি চলে যায়। তবে তাদের এই জাল সনদ তৈরিতে যে বা যারা সহযোগিতা করেছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করছি।

