শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঝাঁপা বাওড় থেকে আড়াই কোটি টাকার মাছ লুট: প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

আরো খবর

রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বৃহত্তর ঝাঁপা বাওড় থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মাছ লুটের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় মৎস্য অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মোবারকপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সুধাংশ বিশ্বাস।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি গোপাল অধিকারি, সদস্য প্রশান্ত কুমার, রুহিদাস, শাহআলম ও তুহিন হোসেন প্রমূখ।

 

লিখিত বক্তব্যই উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৬শ ৫ একর আয়তনের বৃহত্তর এ বাওড় বাংলা ১৪৩০ থেকে ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত মোবারকপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ইজারা গ্রহন করেন। প্রতিবছর এ মৎস্যজীবি সমিতি সরকারকে এক কোটি ষাট লক্ষ টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে। সে মোতাবেক বিগত একটি বছর এ সমিতি সরকারের ধার্যকৃত টাকা পরিশোধ করে বেশ সুনামের সাথে মৎস্য চাষ করে আসছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোবারকপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ও বাওড়ের লীজগ্রহিতা সুধাংশ বিশ্বাস আরো বলেন, গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ৬ আগষ্ট থেকে এলাকার শতশত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিদিন এ জলমহল থেকে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছে। যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বাওড়ের লীজগ্রহিতারা এবং পাহারাদাররা মাছ লুটে বাধা প্রদান করতে গেলে তাদেরকে মারপিটসহ বিভিন্ন প্রকারের হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীকাল ধরে বিভিন্ন সমিতির নামে দুই পাড়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা লিজের মাধ্যমে ঝাঁপা বাওড়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বাংলা ১৪৩০ থেকে ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত ৬বছর মেয়াদি সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত নেন মোবারকপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। যার একটি বছর চলমান। ওই সমিতি বাওড়টি লীজ নেয়ার পর থেকে অবৈধ ক্ষমতাবলে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল জোরপূর্বক বাওড় থেকে মাছ লুট করে আসছে। এ পর্যন্ত ওই চক্রটি ঝাঁপা বাওড় থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মাছ লুট করে বিক্রি করে দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন সমিতির সভাপতি। আর এতে সমিতির শত শত গরীব অসহায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত মৎস্যজীবিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছরের লীজের টাকা পরিশোধ করা আদৌও সম্ভব হবে না। বাওড় থেকে অব্যাহতভাবে মাছ লুটের ফলে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণগ্রস্থ সমিতির গরীব অসহায় হতদরিদ্র সদস্য ও তাদের পরিবার ইতিমধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায় ঝাঁপা বাওড় থেকে মাছ লুটকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মাননীয় মৎস্য উপদেষ্টার আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাওড়ের লীজ গ্রহিতা ও মোবারকপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সুধাংশ বিশ্বাস।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ