বিশেষ প্রতিনিধি: যশোর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে চলছে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নয় ছয় করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে।
জনসাধারণের নিরাপদ পানিসরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের অনুকুলে মোটাদাগে আর্থিক বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে পানিসরবরাহ আর্সেনিক ঝুঁকি নিরশন প্রকল্পে ১৫০ কোটি, সমগ্রদেশে পানিসরবরাহ প্রকল্পে ২শ’ কোটি, পিইডিএফ প্রকল্পে ২০০ কোটি, পিএসএফ প্রকল্পে ১ কোটি এবং পুকুর খনন প্রকল্পে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। জনগুরুত্বপুর্ণ এসব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া,কার্যাদেশ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুত্রমতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদাদের দাখিলকৃত দরপত্র সঠিকভাবে যাচাইবাছাই না করে ১০ শতাংশ এভাবে কার্যাদেশ দেয়া হয়। বিনিময় কাজের শুরুতে তিনি বাগিয়ে নেন ৫০ কোটি টাকা। যা তদন্তে প্রমাণ মিলবে বলে সূত্রটির দাবি। অন্যদিকে ১০ শতাংশ এভাবে কার্যাদেশ দেয়ায় সরকারে অতিরিক্ত ৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
সূত্রমতে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে তিনি এই লাগামহীন দুর্নীতি করে আসছিলেন। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ওয়াকেবহাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন। কর্তৃপক্ষ নজরদারি বৃদ্ধি করায় সর্বশেষ ওই দপ্তরে যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তা সঠিকভাবে যাচাইবাছাই করায় আগের সিন্ডিকেট ঠিকাদাররা কেউই কাজ পাননি। আর এতেই প্রমাণ হয় এর আগে তিনি যতগুলো প্রকল্পের কার্যাদেশ দিয়েছেন প্রত্যেকটিতে বড় ধরণের ঘাপলা রয়েছে।
তার দুর্নীতি শুধু টেন্ডার বা কার্যাদেশ প্রক্রিয়ায় মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নেও পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে পিএসএফ প্রকল্প আলোর মুখ দেখার আগেই ফাইনাল বিল দিয়ে ঠিকাদারের সাথে ভাগবাটায়োরা করেছেন এই প্রকৌশলী। এই খাতে ৭ কোটি টাকার বিল প্রদান করা হলেও তা জনসাধারণের কোন কাজে আসেনি।
সূত্র জানায়, শুস্ক মৌসুমে জনসাধারণের নিরাপদ পানির চাহিদা পুরণের জন্য যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় ২৩ টি পুকুর খনন এবং ওই পুকুর থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য পিএসএফ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে পুকুর খননে ৬ কোটি এবং পিএসএফ প্রকল্পে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে একটি পুকুরেও পিএসএফ প্রকল্প চালু হয়নি। পুকর খননের নামে পুকুর চুরি এবং বিশুদ্ধ পানি সাপ্লায়ের মেশিন না বসিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করে হজম করা হয়েছে। ফলে জনকল্যাণে নেয়া গৃহীত পকল্পে জনসাধারণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ এবং কলাগাছ থেকে বটগাছ বনে গেছেন প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ এবং সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদাররা।
এব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেস্টা করেন। পিএসএফ প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব নয় ১৫ টির বিল (এক কোটি টাকা) পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্প চালু না করে বিল পরিশোধ নীতি পরিপন্থি কিনা জান্তে চাইলে তিনি বলেন, উল্লেখিত প্রকল্পের যন্ত্রাংশ জেলা পরিষদে জমা রাখা আছে। যা পরে লাগানো হবে।

