শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শাপলা ফুল বিক্রি করে সংসার চলে স্কুল শিক্ষার্থী আলামিনের

আরো খবর

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছায় জাতীয় ফুল শাপলা বিক্রি করে সংসার চলে স্কুল শিক্ষার্থী আলামিন হোসেনের (১২)। আলামিন হোসেন উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মৃত শামসুল আলমের ছেলে ও মুক্তদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র।

রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চৌগাছা বাজারের প্রেসক্লাব চত্বরে শাপলা ফুল বিক্রি করতে আসা স্কুল শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন আলাপচারিতায় বলেন, আমার পিতা মারা গেছেন বেশ আগে। মা ঝর্না বেগম মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। আমরা দুই ভাই ও দুই বোন। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে সংসারে দুই ভাই আর মা মোট তিন জন। সংসারে অভাব-অনাটন লেগেই থাকে। আলামিন হোসেন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে শাপলা ফুল বিক্রি করে সংসারে বাড়তী অর্থ যোগান দেয়।

আলামিন বলেন, লেখাপাড়ার পাশাপাশি আমি এ সবজি বিক্রি করি। জীবিকা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কাজও করে থাকি। পুঁজি ছাড়া এ শাপলার ব্যবসা করা যায় বলেই আমি এ ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতিদিন ভোর রাতে শাপলা তুলতে চলে যায় নিজ গ্রামের বিলে। এ ছাড়া আমার গ্রামের পাশ দিয়ে এঁকে-বেঁকে বয়ে চলেছে ভৈরব নদ। কোন কোন দিন সেখানেও যায় শাপলা তুলতে। বাড়ির কাছে হওয়ার বেশ সুবিধা হয়। প্রতিদিন আমি কমপক্ষে ১০০ থেকে ১২০ মুঠো শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। এক মুঠো শাপলা ফুল বিক্রি হয় ১০ টাকায়।

আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও তরকারি হিসেবে জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রায় সবখানে খাল, বিল, পুকুর, ডোবায় শাপলা পাওয়া যায়। উপজেলার অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এ শাপলা তুলে পরিবারের সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তা বাজারে বিক্রি করে কাটাচ্ছেন সংসারের দৈন্যদশাও।

শাপলা শুধু সৌন্দর্য ছড়ায় না; খাদ্য চাহিদাও পূরণ করে। বর্ষায় এ উপজেলায় শাপলা অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে ওঠেছে। এ খানকার অনেক পরিবারের সবজি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকলেও দূষণ ও জলাশয় কমতে থাকায় এখন আর আগের মত শাপলা পাওয়া যায় না।

উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের আব্দুল মুন্নাফ কালু মিয়া জানান বর্ষা মৌসুমে আমাদের বয়সাগাড়ী খালে ও বিলেঅনেক শাপলা ফুটে। আষাঢ় থেকে শুরু করে আশ্বিন মাস পর্যন্তপাওয়া যায় এই শাপলা। এ এলাকায় সবজি হিসেবে শাপলার ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

অনেক দরিদ্র পরিবারশাপলা বিক্রি করে সংসার চালায়। পুষ্টিসমৃদ্ধ শাপলা সবজি হিসেবে জীবন যাপনে বড় ভ‚মিকা রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। যে শাপলা বিলে জন্মে বিলেই পচে যেত, সে শাপলা সবজি হিসেবে আজ অনেকেই বাঁচার একমাত্র সম্বল।

চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালের ডা. শাহিদুর রহমান ইমন বলেন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য গুনে ভরপুর শাপলা ফুলে প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে ১.৩ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১.১ গ্রাম আঁশ, ৩.১ গ্রাম ক্যালোরি-প্রোটিন, ৩১.৭ গ্রাম শর্করা, ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ