কেশবপুর(যশোর)প্রতিনিধি: কেশবপুরে অবৈধভাবে সরকারি রাস্তার জায়গায় টয়লেট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন দখলে রাখায় রাস্তাটি পাকা ও প্রশস্তকরণ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে চলাচলের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনগণ।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা গণস্বাক্ষর করে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে চাকুরীজীবি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগদহা গ্রামের একটি রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদফতর রাস্তাটি প্রশস্ত ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৫০০ মিটার রাস্তাটি প্রশস্ত ও পাকাকরণের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু নুরুল ইসলাম সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টয়লেট নির্মাণ করে রাখায় রাস্তার নির্মাণ কাজে বিঘ্ন ঘটছে। তিনি রাস্তার জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় ঠিকাদার ওই অংশে কাজ করতে পারছেন না
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম বলেন, যেখান দিয়ে রাস্তা করা হচ্ছে তা ব্যক্তি মালিকানাধীন।
অভিযোগকারী হিরনসহ ভুক্তভোগী অনেকেই বলেন, বাগদহা গ্রামের মৃত জাহান আলী সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে পিয়ন পদে চাকরি করেন। সেই দাপটে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সালিশ মানেন না। সে ৪ থেকে ৫’শত পরিবারের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তার নির্মাণাধীন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমরা গ্রামবাসী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট শরণাপন্ন হলে তিনি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য সালিশ করেন। সালিশের সিন্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান সাহেব উক্ত জায়গায় গিয়ে রাস্তা পরিমাপ করলে রাস্তার উত্তর পাশে বাশারের দুটি নারিকেল গাছ এবং অপর পাশে নুরুল ইসলামের বাথরুম পড়ে যায়। ওইসময় উভয়কে গাছ কর্তন এবং বাথরুম ভেঙে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সালিশের সিন্ধান্ত মোতাবেক বাশার নারিকেল গাছ কেটে নিলেও নুরুল বাথরুম ভেঙে নেননি।
রাস্তার বিষয়ে একই গ্রামের ঠিকাদার লুৎফর রহমান বলেন, সরকারি রাস্তার উপর থেকে বাথরুম অপসারণের কথা বললেও তারা কোন কর্ণপাত করছে না। রাস্তার কাজ প্রায় হয়ে গেছে, শুধুমাত্র ওই জায়গায় কাজ করতে না পারায় পানি জমে যাচ্ছে। তাতে করে গ্রামের লোকজনের চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। সে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার উপর থেকে বাথরুম ভেঙ্গে নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্তের জন্য ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

