শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরা রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিউম বইয়ের ৫ পাতা গায়েব, চেয়ারম্যানসহ আটক ৫

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জমির দলিলের ভলিউম বইয়ের ৫ টি পাতা গায়েব হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (১৬ অক্টোবর) টানা ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে ৫ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিপন মুন্সি।

আটককৃতরা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, তার ভাইপো ইয়াছিন আরাফাত (শাওন), রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ অনল কৃষ্ণ রায়, কাজী আবুল বাশার ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার এম. এম. শাহজাহান।

সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্টার মোঃ রিপন মুন্সি বলেন, স্ট্যাম্প ভেন্ডার এসএম শাহজাহানের কাছে এক ভদ্রলোক  এসে বলে আমাকে চারটা নকল তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বালাম আছে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করে দিতে হবে। এখানে শাহজাহান যা করেছে এ পর্যন্ত যা তথ্য পেয়েছি আমাদের এখানকার এক নকলনবীশ অনল কৃষ্ণ রায় নামে এক লোক রয়েছে। সে কাজী আবুল বাসারকে দিয়ে নফল গুলো লিখেছেন। লেখানোর পর অফিসের রেজিস্টারে এন্ট্রি না করে আমার আগের এক অফিসার ও আমার সই জাল করে দিয়ে দিয়েছে। এটা আমি বেশ খানিক আগেই উদ্ধার করেছি।

সদর সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, আমার উদ্ধারের মূল টার্গেট ছিল ক্ষতিগ্রস্ত পাতাগুলো গেল কোথায়। এটা শেষ পর্যন্ত এস এম শাহজাহান স্বীকার করেছেন পাতাগুলো আমার কাছে রয়েছে আমি কাল বেলা ১২ মধ্যে বের করে দেব। আমাকে অনেক রিকোয়েস্ট করেছিল আমাকে সময় দেন আমি কাল ১২ মধ্যে এগুলো আপনার কাছে এনে দেব।

তখন আমি বললাম আপনি যে আমার কাছে ১২টার মধ্যে এনে দেবেন আপনাকে যে কাল আমি পাব এর গ্যারান্টি কি? আপনি যদি এখনই আমার কাছে এনে দেন তাহলে আমি দেখব কি করতে পারি। কিন্তু আপনি আমাকে এই কথা বলে চলে যাবেন পরে দেবেন কি দেবেন না আপনার তো কোন গ্যারান্টি নেই। আপনাকে যদি থাকতে হয় নিরাপদ হেফাজতে থাকতে হবে। সেই ভাবে থানা থেকে পুলিশ এসেছে আমি অফিসিয়াল চিঠি করেছি। মামলা করার জন্য আমার রেকর্ড কিপারকে পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, তারা রীতিমতো স্বীকার করেছে যে আমরা এই দুই নম্বরিগুলো করেছি। একটা ঝামেলা নিয়েই আমরা অস্থির হয়ে গিয়েছি। চেয়ারম্যান আমার অফিসে এসেছিল, এটার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা যখনই আমি শুনেছি, তখনই থানায় কল দিয়েছি পুলিশ এসে তাকে  থানায় নিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শফি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসের ঘটনায় চেয়ারম্যান সহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ