যশোরের চৌগাছা থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় সক্রিয় হয়েছে অপরাধীরা। উপজেলা জুড়ে চলছে মাদকের রমরমা কারবার। পুলিশের নাকের ডোগায় শহরের মধ্যে হোটেল রেস্তেরার নামে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। গত এক সপ্তাহ ব্যবধানে উপজেলায় দুটি হত্যা কান্ড। এসব অপরাধ কর্মকান্ডের জন্য থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়াতাকে দায়ি করেছেন।বৃহস্পতিবার উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বক্তারা পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা।
বক্তারা বলেন, থানা সচল হলেও কার্যত এখনো নিষ্ক্রিয় রয়েছে থানার পুলিশ। কোথাও পুলিশের টহল নেই। এ সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দখল, বাওড় লুট, চাঁদা আদায়, ছিনতাই, খুনসহ নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।
সাংবাদিক আজিজুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত উপজেলায় দুটি হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একটি অপরাধি চক্র চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপ কর্মে জড়িত।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেইনি। তিনি বলেন, হত্যা কান্ডের পরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাংচুর অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সক্রিয় থাকলে অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনা নাও ঘটতে পারতো।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের নাকের ডোগায় শহরের মধ্যে গল্প কুঠির, ফুডল্যান্ড, কমলাপুর গ্রামে কাশেম পার্ক সহ কয়েকটি রেস্তেরার মালিক দিনের বেলা বিভিন্ন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের অনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ করে দেয়। এদের বিরুদ্ধে একাধিক বার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
বিজিবি সদস্যদের উদ্যেশ্যে বলেন, উপজেলার ভারত সমীন্তবর্তী কাবিলপুর ও শাহাজাদপুর পাচারকারিদের একটি নিরাপদ রুট তৈরি হয়েছে। এই রুটে আওয়ামীলীগের দোসররা নিরাপদে ভারতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মহিলা সদস্য কাজল রেখা গল্প কুঠির ও ফুঢল্যান্ড রেস্তেরায় অনৈতিক কর্মকান্ডের একজন প্রত্যাক্ষদর্শী উল্লেখ করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম বলেন, নারায়ন পুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামের ইসমাইলের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা দখলসহ মাদক কারবারির অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বার বার বলা সত্ত্বেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে কোনো ভুমিকা নিচ্ছেনা।
আন্দুলিয়া বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল গনি বলেন, সম্প্রতি সীমন্ত এলাকায় মাদক সেবনকারিদের আনাগোনা বেড়েছে। বিজিবি সদস্যদের আইনি সিমা বদ্ধতা থাকার কারনে ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। এজন্য বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, তার এলাকায় কয়েকজন মাদক সেবনকারি ও বিক্রেতা প্রকাশ্যে মাদকের সাথে জড়িত। কিন্তু পুলিশের ভুমিকা নেই।
মিটিংয়ে উপস্থিত চৌগাছা থানার প্রতিধি এসআই আবু জাফর বলেন, একটি থানায় ১৫/২০ অফিসার থাকার কথা সেখানে বর্তমানে চৌগাছা থানা চলছে মাত্র ৫/৭ জন অফিসার দিয়ে। এর পরেও ওসি এবং ওসি তদন্তের পদ বদলিজনিত কারনে শুণ্য রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে সকল অপরাধ দমন করা সম্ভবনা। অপরাধের সুনিষ্ট তথ্য দিলে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে জানান।
এছাড়া শহরের জানজট নিরশনসহ উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা উন্নতির বিষয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কমিশনার (ভুমি) তাসমিন জাহান, উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল কবির, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাংবাদ কর্মীরা।

