কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে লাক্ষা ব্যবসায়ী প্রতারক আয়ুব হোসেনের গ্রেফতার দাবিতে রোববার বিকেলে কলাগাছি বাজারে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীরা। সে লাক্ষা ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
এতে হতাশ হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর আয়ুব হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৩ বছর ধরে কেশবপুর উপজেলার খতিয়াখালি মোড়ের আব্দুস সালামের গোডাউন ভাড়া নিয়ে লাক্ষা (কাঠের রঙের কাঁচামাল) ব্যবসা করতো কলারোয়া উপজেলার গয়ড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে লাক্ষা ব্যবসায়ী আয়ুব হোসেনসহ তার ৩ সহযোগি।
২ বছর আগে লাক্ষা ব্যবসার সূত্র ধরে আয়ুব হোসেন গংদের সাথে পরিচয় হয় লাক্ষা প্রসেস মালিক বগুড়া জেলার সূত্রাপুর গ্রামের শফিউল আলম ও কেশবপুরের পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ইউনিয়নের অর্ধশত ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীর। ৬ নভেম্বর ব্যবসার সুবাদে সে শতাধিক ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম ১৬ লাখ ও ৭ নভেম্বর তাদের মহাজন শফিউল আলমের অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
৭ নভেম্বর আয়ুব গংদের লাক্ষা প্রসেস করার জন্য মহাজন শফিউল আলমের কাছে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় শফিউল আলমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা খতিয়াখালি মোড়ে গিয়ে দেখতে পায় দোকান বন্ধ করে তারা উধাও হয়েছে। পরবর্তীতে গোডাউন মালিক আব্দুস সালামের কাছে গিয়ে জানতে পারে আয়ুব হোসেন দোকানঘর ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে।
এঘটনায় ১০ নভেম্বর মহাজন শফিউল আলম বাদী হয়ে আয়ুব হোসেনসহ তার ৩ সহযোগি মনিরুজ্জামান নেদু, তরিকুল আনছারী ও ফারুক আনছারীকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। এছাড়া, ওইদিন বিকেলে কলাগাছি বাজারে প্রতারক আয়ুব হোসেনের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন লাক্ষা ব্যবসায়ী শাহীন গাজী, আফসার সরদার, লুৎফর বিশ্বাস, আবুবকর সরদার, মুনছুর গাজী প্রমুখ। লাক্ষা ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রেন্ট্রি গাছের মগডালে জন্ম নেয় মূল্যবান এক ধরণের ভাইরাস বা আটা।
আক্রান্ত গাছের ক্ষুদ্র ডাল কেটে এ ভাইরাস অপসারণ না করলে গাছ মরে যায়। যে কারণে গাছের মালিকেরা টাকার বিনিময়ে ভাইরাস বিক্রি করে দেয় ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীদের কাছে। ক্ষুদ্র লাক্ষা ব্যবসায়ীরা লাক্ষা বিক্রি করতো মহাজন আয়ুব হোসেনের কাছে। যা কেশবপুরে ভাইরাস নামে পরিচিত। এ ভাইরাস মূলত কাঠের রঙের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই লিটন দাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আয়ুব হোসেনের প্রতারনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে।

