বেনাপোল প্রতিনিধি :
যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে পরিবহন বাস মালিক সমিতির নির্দেশ টানা ২দিন বন্ধ রয়েছে ঢাকা বেনাপোল দুরপাল্লার পরিবহন চলাচল। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পাসপোর্ট যাত্রীরা। পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপাকে। শুয়ে বসে সময় কাটছে তাদের বাড়ছ নাভিশ্বাস।।
বন্দর ও শ্রমিকেরা জানান. ঢাকা ও চিটাগাং থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার পরিবহন শুক্রবার দিবাগতরাত তিনটার দিকে বেনাপোল পৌর বাস টার্মিনালে পৌছালে বাসের যাত্রীদেরকে জোর পূর্বক নামিয়ে নেওয়া হয়। এসময় নিরাপত্তাহীনতাই ভোগেন তারা। পরে অন্যএকটি লোকাল বাসে গন্তব্যে যায যাত্রীরা।
এই হয়রানির প্রতিবাদে বেনাপোল থেকে দূরপাল্লার সকল বাস বন্ধ রেখেছে বাস মালিক সমিতি।।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান,যানজট নিরসনে এক সপ্তাহ আগে যশোরের জেলা প্রশাসকের সাথে স্থানীয় সুধীসমাজ এবং পরিবহন কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়,বেনাপোল চেকপোস্ট এবং বাজার থেকে যে সব পরিবহণ ও লোকাল বাস দেশের বিভিন্ন জেলাশহরে যায় সে সব বাস বর্ডার থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়তে হবে।
তবে ঢাকা থেকে রাতে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার পরিবহন গুলো আপাতত ভোরে যাত্রী চেকপোস্টে নামিয়ে দিয়ে সে বাস টার্মিনালে ফিরে যাবে। সে ভাবেই চলছিল দূর পাল্ৰার পরিবহন।হঠাৎ করে (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পরিবহনের যাত্রীদের টার্মিনালে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া হয়। হয়রানির শিকার হয় যাত্রীরা। কোন কিছু না জানিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে বাস মালিক সমিতি সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন শ্রমিকেরা।
শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী ইদু জানান, দুর পাল্লার বাসের যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উদ্বেগের কারন হয়ে দাড়িযেছে। বেকার হয়ে পড়েছে বেনাপোলের ৫শতাধিক পরিবহন শ্রমিক।
বেনাপোল পরিবহন সমিতির সভাপতি বাবলুর রহমান বাবু ও সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পর নির্দেশনা মত চলছিল সব।
ঢাকা থেকে রাতে ছেড়ে আসা বাসগুলোর পাসপোর্টযাত্রীদের বেনাপোল চেকপোস্টে নামিয়ে দিয়ে খালি বাস পৌর বাস টার্মিনালে চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে রাত তিনটার দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বাসের যাত্রীদের জোরপূর্ব টার্মিনালে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে হয়রানির শিকার হয়। বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায ঢাকার বাস মালিক সমিতি বন্ধ রেখেছে পরিবহন চলাচল।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌর প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাজিব হাসান জানান,আমরা তো চেকপোস্টের বাস টার্মিনাল বন্ধ করিনি। বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী টার্মিনালের গেট বন্ধ রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, একটা সমস্যা হলে তার সমাধানও আছে। বাস মালিকের প্রতিনিধিরা কোন আলোচনা না করেই এলাকায় একটা অস্থিরতা সৃষ্টি জন্য বাস বন্ধ রাখছে এটা সঠিক কাজ করেননি। উভয়ই বসে বিষয়টি সমাধানের আশা করেন তিনি।
স্থলবন্দর বেনাপোল সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক)-সৈয়দ শা,আ,ম খালিদ জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল বাসটার্মিনাল। তবে ঢাকা কলিকাতা বাস যাচ্ছে চেকপোস্ট হয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে চালু হবে সীমান্তের বাস টার্মিনাল।

