স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হানিফকে গুলিবিদ্ধ ও মদ্যপ অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল। এরপরই টুটুল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হানিফের স্ত্রী শিরিন জানান, ঢাকা মেডিকেলে তার বড় একটি অপারেশন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ২টয় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্ততি চলছিল। এমন সময় তার স্বামী মারা যান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে বারবার হানিফকে কল করেছিলেন জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল। একপর্যায় টুটুল বাড়ি উদ্দেশ্য বের হয়ে যান। রাতে জানতে পারেন তার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, হানিফ যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দাইতলায় বাড়ি করে বসবাস করতেন। সদর উপজেলা পরিষদের অপসারিত সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা ফন্টু চাকলাদারের (সাবেক এমপি শাহিন চাকলাদারের ভাই) ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বেশিরভাগ সময় কামরুল ইসলাম টুটুলের সঙ্গে থাকতেন। আর কামরুল ইসলাম টুটুল বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত নাজমুল ইসলাম কাজলের ভাই এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথীর দেবর।
স্থানীয়রা আরও জানান, কামরুল ইসলাম টুটুল আওয়ামী লীগের দলীয় কোনো পদে না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবেই পরিচিত। আওয়ামী লীগ নেতা ভাই-ভাবির নির্বাচন করা ছাড়াও তিনি নিজে দলীয় প্রতীকবিহীন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর হানিফ একাধিক মামলার আসামি। তিনি এসব মামলায় বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান জানান, হানিফের পেটের ডানপাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন কামরুল ইসলাম টুটুলের মালিকানাধীন বাঘারপাড়া উপজেলার করিমপুরের এনআইবি ইটভাটার মধ্যে হানিফ গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার সময় টুটুলও তার সঙ্গে ছিলেন। ওই সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না বা কী কারণে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা বা অভিযোগ দেয়নি।

