মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইল:
নড়াইলের চিত্রা ক্লিনিকে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা, ভুল অপারেশনে রুগীর মৃত্যুও হচ্ছে,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের সাথে করছে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এই ক্লিনিকে এক প্রসূতির অপারেশনের পর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়া পৌর সভার গুপিনাথপুর গ্রামের উদার উদ্দিনের ছেলে মো: চুন্নু এর স্ত্রী খাদিজা বেগমকে গত পহেলা জানুয়ারী (বুধবার) সকালে নড়াইল শহরের চিত্রা ক্লিনিকে ৯ হাজার টাকার চুক্তির মাধ্যমে সিজার অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়।
একই দিন বিকালে প্রসূতী খাদিজা বেগমকে সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষ করে রোগীকে বেডে আনার পর থেকেই রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরন শুরু হয় এবং প্রর্সাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় রোগীর স্বজনদের কিছু না জানিয়েই আবারও ওটিতে নিয়ে যায়,ক্লিনিক মালিক তরিকুল ইসলাম।
পরে ওটি থেকে বের করে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে চিত্রা ক্লিনিকের মালিক তরিকুল ইসলাম দ্রুত নিজে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীকে খুলনা’র এক ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং সেই ডাক্তার রোগীকে দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।
এসময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বোর্ড বসিয়ে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।পরে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারী রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাদিজা বেগম মারা যায়।
ভুল অপারেশনে মৃত খাদিজা বেগম,নড়াইল সদর উপজেলার বাসগ্রাম ইউনিয়নের কর্মচন্দ্রপুর গ্রামের মো: বাসার মোল্যার মেয়ে এবং খাদিজা বেগম ৩ সন্তানের জননী ও তার স্বামী মো: চুন্নু একজন দিন মজুর। ভুল অপারেশনে মৃত খাদিজা বেগমের স্বামী দিন মজুর মো:চুন্নু জানান,আমি আমার স্ত্রীকে চিত্রা ক্লিনিকে সিজারের জন্য নিয়ে আসলে চিত্রা ক্লিনিকের মালিক তরিকুল ইসলাম ৯ হাজার টাকা চুক্তিতে
ডাঃ কামরুল হাসান মিলুকে দিয়ে একই দিন সিজার করায় এবং সিজারের পরেই আমার স্ত্রী’র অতিরিক্ত রক্তখরন সুরু হলে ও প্রর্সাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যাওয়ায় আমাদের না জানিয়ে আবারও অপারেশনের জন্য ওটিতে নিয়ে য়ায়,ক্লিনিক কতৃপক্ষ। পরে ওটি থেকে রোগীকে তারা হুরা করে বের করে নিজের টাকায় এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আমাদের খুলনায় পাঠিয়ে দেয় ক্লিনিক মালিক তরিকুল ইসলাম।
খুলনার চিকিৎসক’রা রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করে এবং ঢাকায় চিকিৎসারত অবস্থায় আমার স্ত্রী মারা যায়। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা রুগীর অবস্থা দেখে বলেন,রুগীকে শেষ করে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন,এখন আমাদের কিছু করার নেই। এদিকে চিত্রা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনর জন্য একাধীক বার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়ে বিরদর্পে ক্লিনিক চালাচ্ছেন তরিকুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,চিত্রা ক্লিনিকের মালিক তরিকুল ইসলাম,অভিজ্ঞ গাইনি ডাক্তার ছাড়াই অনঅভিজ্ঞ ডাক্তারদারা অল্প টাকার মাধ্যমে ও এ্যানেস্থাশীয়া ডাক্তার ছাড়াই প্রসুতীদের অজ্ঞান করে অপারেশন করান,যার কারনে প্রতিনিয়তই চিত্রা ক্লিনিকে এমন মৃত্যুসহ কিডনি ড্যামেজের ঘটনায় প্রসুতী রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে।
এ বিষয়ে চিত্রা ক্লিনিকের মালিক মোঃ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,ডাক্তার কামরুল হাসান মিলু,মৃত খাদিজার স্বামী চুন্নু,ফারুক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি’রা থেকে টাকা দিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছে। তবে চিত্রা ক্লিনিকের মালিক তরিকুল ইসলাম,জেলার বিভিন্ন নেতাদের দিয়ে হুমকিসহ সংবাদ প্রকাশ না করতে দোড়ঝাপ করেন।
এ ঘটনায় ডাক্তার কামরুল হাসান মিলু এ প্রতিবেদককে বিষয়টি বাদ দিতে বলেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

