সাইফুল আজম খান মামুন:
সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া গেজেট প্রদর্শন করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত ২০১২ সালে শহিদুল ইসলাম তার পিতার নামে ভুয়া গেজেট দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তৎকালীন সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি নেন।
শহিদুল ইসলাম ২০১২ সালে ভুয়া গেজেটের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে যোগদানের পর দীর্ঘ ৪ বছর পর তার পিতা এম,এম,এ রউফ এর নামে ২০১৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট প্রকাশ হয়। ভুয়া গেজেট প্রদর্শন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে চাকরির ঘটনায় বিভিন্ন মহলে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রীতিমতো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা থেকে কুষ্টিয়া জেলায় বদলি করা হয়। অভিযোগ আছে, বদলি আদেশ হওয়া সত্বেও একই কর্মস্থলে বহাল অদৃশ্য শক্তিবলে বহাল রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ১৭ ফেব্রুয়ারি উপসচিব আশফিকুন নাহার সাক্ষরিত ৪৬.০০.০০০০.০৮৩.১৯.০০১.২২.১০৩ নং স্মারকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সরবরাহ শাখা -০১ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম কে কুষ্টিয়া জেলায় বদলি করা হয়। অভিযোগ আছে, সাতক্ষীরায় সুপেয় পানি প্রকল্পের নামে শহিদুল ইসলাম ৪ বছরে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। শহিদুল ইসলাম নামে বেনামে ব্যাংক ব্যালেন্সসহ গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। যশোর জেলার নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। যশোরের আবাসিক এলাকায় শহিদুল ইসলামের রয়েছে একাধিক জমির প্লট।
এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানিতে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, দামী গাড়ি সহ অঢেল সম্পদ। একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে হটাৎ রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কাণ্ডকারখানা দেখে অনেকের মনে হয়েছে শহিদুল ইসলাম আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। অপরদিকে, দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে অন্যাত্রে বদলির আদেশ হলেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা অফিসে রয়েছে এখনো দাম্ভিকতার সাথে।
জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম ছুটির দিনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরা অফিসে বসে বদলি আদেশর নথিপত্র গায়েব করেছেন। গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ার সুবাদে শহিদুল ইসলাম কোন নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা করেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ তুলে বলেন, শহিদুল ইসলাম ২০২১ সালের মে মাসে যোগদানের পর থেকে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সে কারণে শহিদুল ইসলামের সীমাহীন অপকর্ম ও দূর্নীতির দায়ে কুষ্টিয়া জেলায় বদলির আদেশ হয়। বদলি আদেশের পরেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত খাড়া, নানা তাল-বাহানা সহ বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে এখনো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরা অফিসে রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগের প্রমাণাদি, বদলি আদেশের নথি যাতে অফিসে অবস্থান করে তিনি খুব সহজেই অন্যাত্রে সরাতে পারেন। তারা বলেন, বদলি আদেশ হওয়া সত্বেও অদৃশ্য শক্তি বলে শহিদুল ইসলাম এখনো একই কর্মস্থলে আছেন, তার খুটির জোর কোথায়? শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় দুইশ কোটি টাকার টেন্ডার নয়-ছয় করার অভিযোগ রয়েছে।
সীমাহীন দূর্নীতি করা সত্বেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বদলির আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিভাবে এখনো একই কর্মস্থলে আছে এ নিয়ে এখন জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ বিষয় সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিয়ে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

