শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল: বেনাপোল থেকে ঢাকায় ফিরে গেল রপ্তানি পণ্য বোঝাই ট্রাক

আরো খবর

বেনাপোল প্রতিনিধি:ভারত সরকার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় বুধবার থেকে বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে রপ্তানিবাহি পণ্যবোঝাই ৪টি ট্রাক ঢাকায় ফিরে গেছে।
ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দর থেকে ফেরত যাওয়া পণ্যের রপ্তানিকারক ডিএসভি এয়ার এন্ড সি লিমেটেড প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে বন্দর পরিচালক মামুন কবির তরফদার জানান, ৪টি ট্রাক ফিরে গেছে ঠিক। তবে কোন রপ্তানিপ পণ্যের কাগজপত্রের অনুমতি থাকলে সেগুলো যেতে বাধা নেই। নতুন করে কোন রপ্তানিকৃত ট্রাকে গার্মেন্টস পণ্য যাবেনা ভারতে।

 

বেনাপোল স্টাফ এসোসিয়েশনের সম্প্দক সাজেদুর রহমান জানান স্থলবন্দর দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধের জন্য ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি ইস্যু করেছে কাস্টমসে। এ চিঠির আলোকে ট্রানজিট সুবিধার পণ্য বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, এই সুবিধা বাতিলের কারণে এখন থেকে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের রপ্তানি ব্যয় বাড়বে। লজিস্টিক যাবে দেরিতে। এ ছাড়া নেপাল ও ভুটানের বাংলাদেশে সীমিত ট্রানজিট সুবিধা ব্যাহত হবে। কারণ, এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ব্যাহত হবে।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের এই সিদ্ধান্ত দেশটির বন্দর ও বিমান বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য পরিবহনের ওপর প্রভাব ফেলবে, বাংলাদেশে রপ্তানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের বাজারে। এই সুবিধা বাণিজ্য সহজতর করতে এবং খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ‘লজিস্টিক্যাল’ চাপ বাড়াতে পারে, যা আঞ্চলিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সিএন্ড এফ ব্যাবসায়িরা জানান, ভারতের এই সিদ্ধান্ত মূলত ল্যান্ড পোর্ট দিয়ে আমাদের সুতা আমদানি বন্ধ করার পাল্টা জবাব বলা যায়। জরুরি ভিত্তিতে এয়ারে পণ্য পাঠাতে হলে বেনাপোল হয়ে কলকাতা থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করত। এ সুবিধা বন্ধ হওয়ায় রপ্তানি খরচ বাড়বে। সময়ও বেশি লাগবে। তারা আশা করেন, ভারত তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে এবং উভয় দেশের জন্য উপকার হবে।

 

 

উল্লেখ্য মঙ্গলবার এই সুবিধা বাতিল করে নোটিশ জারি করে দেশটির সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডিরেক্ট অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি) বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণবীর জয়সোয়াল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ