কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুরে হাসানপুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার দু’জন শিক্ষক ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই মাদ্রাসার এপতেদায়ী প্রধান শিক্ষক অনৈতিক কান্ডে লিপ্ত থাকার সময় পুলিশের হাতে আটক হন। পুলিশ তাকেসহ ওই নারীকে মামলা দিয়ে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তবে অপর নারী শিক্ষকের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে।
জানা গেছে, শিক্ষক আবদুর রহমান ১৯৯৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে ওই মাদ্রাসায় যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন ভাবে তিনি অনৈতিক কান্ডে জড়িয়ে পড়েন। গত ৫ মে মাদ্রাসা ছুটির পর এক নারীর সাথে অনৈতিক কান্ডে লিপ্ত থাকার সময় এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং মামলা দিয়ে সোমবার বিকেলে দু’জনকে আদালতে প্রেরন করে। এ ঘটনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গতকাল ৬ মে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানালে তিনি মৌখিক ভাবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষক আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
তবে অপর নারী শিক্ষকের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। অন্যথায় এলাকাবাসী তাদের সন্তানদের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা এমনকি মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দিবে বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুর রহমান অনৈতিক কান্ডে জড়িত থাকার সময় থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার খবর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে এবং শিক্ষক আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের কথা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তবে নারী শিক্ষকের ব্যাপারে আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার হাসানপুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুর রহমান অনৈতিক কান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে আটক করে তাদেরকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

