প্রথান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে কথা বলছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হক ও প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি।

তামিম ইকবাল ও অন্য অভিজ্ঞরা এভাবেই দলকে হতাশ করছেন বারবার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সৌম্য সরকারকে খেলানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে নেই ধারাবাহিকতা। দায়িত্বজ্ঞানহীন ও খামখেয়ালি শটে বিপদে ফেলেন দলকে। তাদের পরের প্রজন্মের অনেকে ৫-৬ বছর খেলেও হয়ে ওঠেন না অভিজ্ঞ। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অভাব মৌলিকত্ব, কর্তৃত্ব আর সৃষ্টিশীলতার। কোচদের কণ্ঠে থাকে পরিকল্পনা আর প্রক্রিয়ার বুলি, কাজে দেখা যায় উল্টো। অভিভাবক সংস্থা বিসিবির কর্মকাণ্ডে ফুটে ওঠে গুরুত্ব ও যত্নের অভাব। অবকাঠামো ও পরিকল্পনার সমস্যা তো চিরন্তন, এসব উন্নত করার পরিকল্পনাও সামান্য।
সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় এখন প্রচণ্ড রুগ্ন ও শীর্ণ। নানা সময়ে নানা টোটকায় সাময়িকভাবে সুস্থ করার চেষ্টা হয়েছে। তাতে কাজও হয়েছে মাঝেমধ্যে। কিন্তু লম্বা পথ চলার মতো উপযুক্ত দাওয়াই দেওয়া হয়নি কখনোই। তাই টেস্ট ক্রিকেটের বাংলাদেশ বেশির ভাগ সময় থাকে শয্যাশায়ী।
প্রত্যাশা মেটে না অভিজ্ঞতায়
মুশফিকুর রহিমের টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স ১৫ বছরের বেশি, তামিম ইকবাল খেলছেন ১৩ বছর ধরে। কিন্তু অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পড়ছে না ধারাবাহিকতায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তামিম। দ্বিতীয় টেস্টে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার স্কোর ৪৪ ও ৫০। ওয়ানডের গতিতে ব্যাট করা নিয়ে প্রশ্ন নেই ম্যাচের প্রেক্ষাপটে। তবে ইনিংস বড় করতে না পারলে তো প্রশ্ন ওঠেই! দুই ইনিংসেই তিনি আউট হয়েছেন অপ্রয়োজনীয় শটে।
এই সিরিজের আগে গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ৪১, ভালো করেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টেও। ২০১৯ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরে দুই টেস্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন। কিন্তু তার আগে ১২ ইনিংসে ফিফটি ছিল কেবল ১টি, সেটিও ৫২ রানের ইনিংস।
প্রতিভা, সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা মিলিয়ে গত কয়েক বছরে বিশ্বসেরাদের একজন হয়ে ওঠার কথা ছিল তামিমের। অথচ তিনি বাংলাদেশ দলের প্রত্যাশাই পূরণ করতে পারছেন না পুরোপুরি।
তামিম ইকবাল ও অন্য অভিজ্ঞরা এভাবেই দলকে হতাশ করছেন বারবার।
একই কথা বলা যায় মুশফিকের ক্ষেত্রেও। গত আড়াই বছরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন তিনি। কিন্তু অন্য কোনো দলের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি নেই গত চার বছরে! এই সময়ে চারটি সিরিজ গেছে, একটি ফিফটিও ছিল না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে চার ইনিংসেই দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন, অথচ ফিফটি কেবল একটি। সেটিও ৫৪ রানের। মিরপুর টেস্টে রিভার্স সুইপে তার উইকেট বিলিয়ে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুঃস্বপ্ন হয়ে রইবে হয়তো অনেক দিন।
মুমিনুল হক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১টি সেঞ্চুরি করেছেন, বাকি ৩ ইনিংসে একবারও ৩০ ছুঁতে পারেননি। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেন। তবে তার আগে ১২ ইনিংসে ফিফটি ছিল কেবল ১টি।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় দলে তাদের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন নেই অবশ্যই। তবে টেস্টে দলকে পরের ধাপে নিতে হলে তো এই অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সও হতে হবে বিশ্বমানের! সেখানে তারা ব্যর্থ চরমভাবে।
অন্যরাও তথৈবচ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পারফরম্যান্সে লিটন দাসকে কাঠগড়ায় তোলার উপায় নেই। দলের সর্বোচ্চ রান এসেছে তার ব্যাট থেকেই। তবে উইকেট ছুঁড়ে আসার জন্য আঙুল তোলা যায় ঠিকই। প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার দায়ও নিতে হবে তাকে। টেস্টে হাজার রান হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেঞ্চুরি করতে পারেননি ২২ টেস্ট খেলে।
মোহাম্মদ মিঠুন মিরপুর টেস্টে সুযোগ পেয়ে প্রথম ইনিংসে বেশ লড়াকু খেলছিলেন। পরে আউট হন যথারীতি বাজে শটে। দ্বিতীয় ইনিংসে তো টিকতেই পারেননি সেভাবে। ১০ টেস্ট খেলা হয়ে গেছে তার, ফিফটি মোটে ২টি। গড় বিশের নিচে।
সৌম্য সরকারকে আচমকা টেস্টে ডেকে এনে যেভাবে খেলানো হয়েছে, এটা হয়তো তার প্রতিও অন্যায়। তবে তিনি পারেননি এরকম একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলে অবদান রাখতে। তার গোটা টেস্ট ক্যারিয়ারের ছবিও হতাশার।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে যাকে মনে করা হচ্ছে দেশের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ, বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে অনেক যত্ন নিয়ে যাকে গড়া হয়েছে, সেই নাজমুল হোসেন শান্ত প্রত্যাশা পূরণের ধারেকাছে নেই এখনও। ৬ টেস্ট খেলে তার একমাত্র ফিফটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
৪৯ টেস্ট খেলার পর বাদ পড়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। ইমরুল কায়েসের সবশেষ টেস্ট ফিফটি ২৬ ইনিংস আগে। সবশেষ ১০ ইনিংসের ৮ বারই তিনি ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। ৩৯ টেস্টের অভিজ্ঞতার পর তিনি তাই দলের বাইরে।
এরকম গল্প প্রায় সবার!
ব্যাটিং অর্ডার
মুশফিকুর রহিম এখন আর টেস্টে কিপিং করছেন না। অথচ ব্যাটিং করছেন ৫ নম্বরে। সাকিব আল হাসান ৬ নম্বরে। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালকে বাদ দিলে, দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান এত নিচে ব্যাট করে, বিশ্বের আর কোনো দলেই সম্ভবত এমনটি দেখা যাবে না!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সৌম্য সরকারকে খেলানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।




