শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

অপরিকল্পিত ড্রেন-রাস্তা নির্মাণ: মণিরামপুরে পানিবন্দি অর্ধশতাধিক পরিবার

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর:যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরে অপরিকল্পিত ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের অর্ধশতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভার অর্থায়নে বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তা সিরামিক ব্লক দিয়ে ঢালাই করা হয়। সড়কের মাঝখানে ৪ ইঞ্চি পাইপ ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো নির্ধারিত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বর্ষার পানি আটকে গিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে বসবাসরত অন্তত ৫০টি পরিবারের বাসাবাড়িতে হাঁটু সমান পানি উঠে গেছে। বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় শ্রেণিকক্ষগুলোও কাদাময় হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন রাস্তার উচ্চতা আগের রাস্তার তুলনায় বেশি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেনেজ পাইপলাইনটি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সিরাজুল ইসলামের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি বাধা দেওয়ায় পাইপ সংযোগ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে পুরো এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এর আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি জানার পর ইউএনও নিশাত তামান্না পৌরসভার এক কর্মচারীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন হাসান ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। তাঁরা অস্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের সাময়িক ব্যবস্থা নেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে না, যা পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে বা পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে।” অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এই আইনের লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৩০ ধারা অনুযায়ী, “জনস্বার্থে ব্যবহৃত পানি বা নিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।” একই দণ্ডবিধির ২৭৭ ধারায় পানি দূষণ বা পানি ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না দৈনিক প্রজন্ম একাত্তর কে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ