নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলীয় আদর্শ পরিপন্থী আচারণের জন্য করা শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ একইসঙ্গে জবাব সন্তোষজনক হওয়ায় অন্য দু’জনকে তাঁদের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। পৃথক দু’টি নোটিশে এ বিষয় জানানো হয়েছে।
বহিস্কৃত ওই নেতার নাম রাশেদুল ইসলাম মামুন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল সদর উপজেলার আহ্বায়ক। অপরদিকে পদে পুনর্বহাল হওয়া দুই নেতা হলেন জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুর রহমান মেহেদী ও আমিরুল ইসলাম রানা।
সোমবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সদস্য সচিব শাফায়াত উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শাফায়াত উল্লাহ বলেন, ‘দলীয় শৃংখলাভঙ্গের কারনে তিনজনকে শোকজ করা হয়েছিল। দু’জনের জবাব সন্তোষজনক হওয়ায় তাঁদের পুনর্বহাল এবং একজনের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে বহিষ্কৃত নেতা রাশেদুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘আমাকে বহিষ্কার করার নোটিশ ফেসবুকে দেখেছি। তবে আমার হাতে আসেনি। আমি আপিল করব। আশা করছি, তাঁরা এ আদেশ প্রত্যাহার করে নিবেন।’
উল্লেখ্য , গত ৬ জুন সংগঠনের ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট দেন সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহমান মেহেদী। পোস্টে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি ছবি সংযুক্ত করে প্রশাসনকে শহিদ, আহত ও সাধারণ মানুষের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
ওই পোস্টটি পরে আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম মুছে ফেলেন। এ নিয়ে মেসেঞ্জার গ্রুপে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর ৮ জুন সিনিয়র নেতারা মীমাংসার চেষ্টা করলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
পরদিন, ৯ জুন নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে যুগ্ম সচিব আব্দুর রহমান মেহেদী ও আমিরুল ইসলামের পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমিরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে মারামারিতে অংশ নেন রাশেদুল ইসলাম মামুন। এ মারামারিতে দুই-তিনজন আহত হন। ১১ জুন এ ঘটনায় সংগঠনটির তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

