শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শার্শায় হাঁসের খামারের বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় একটি হাঁসের ফার্মে শিয়ালের জন্য তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে জড়িয়ে আহাদ আলী (৭২) নামে এক কৃষক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ৮ টার সময় শার্শার রামচন্দ্রপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ফাঁদের লোহার জিআই তারে জড়ানো প্রতিবেশি কৃষক আহাদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ গ্রাম বাসি হাঁসের খামারটিতে ভাংচুর করেছে। আহাদ আলী শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত বাহাদুর মোড়লের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শিয়ালের উৎপাতের কারণে খামারের চারপাশে তারের সঙ্গে বিদ্যুৎ এর সংযোগ দিয়ে রাখতেন। এর আগে ওই খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গরু, কুকুর ও শিয়াল মারা গেছে। তখন গ্রামবাসি খামারের মালিক সোহাগ হোসেন ওরফে (কালুকে) শিয়াল মারার জন্য পেতে রাখা বিদ্যুৎ তারটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলে। কিন্তু সে সেটা করেনি। হাঁসের খামার মালিক সোহাগ হোসেন ওরফে কালূ একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। এঘটনায় খামার মালিক পক্ষের লোকজন মৃত আহাদ আলীর একটি ঘরের চাল ভেঙ্গেছে এবং মামলা না করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগি পরিবার।

ভুক্তভোগি পরিবারের জুলেখা বেগম বলেন, তার শশুর সকালে নাস্তা খেয়ে তাদের বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করতে যায়। তাদের জমির পাশেই ছিল একই গ্রামের কালুর হাঁসের খামার। সে ওই খামারে শিয়াল মারার জন্য প্রতিদিন বিদ্যুৎ এর সংযোগ দিয়ে রাখত। ওই সংযোগের তার তাদের জমির আইলের উপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। আজ বৃষ্টিতে কালুূ বিদ্যুৎ অফ না করায় এ দুর্ঘটনার শিকারে তার শশুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেনম এদিকে কালুর চাচাতো ভাই জুয়েল বাড়ি এসে নিজেকে পুলিশের বড় গোয়েন্দা পরিচয় দেয়। সে আমাদেরকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়। আমার স্বামী সহ তারা তিন ভাই বিদেশ থাকায় আমাদের বাড়িতে এখন পুরুষ মানুষ শুণ্য তেমন কেও বাড়িতে নাই। আমরা তাদের হুমকির জন্য মামলা করতে ভয় পাচ্ছি।

গ্রামবাসিরা জানান, কালুর হাঁসের ফার্মে পেতে রাখা ফাঁদে এ পর্যন্ত একটি গরু,একটি কুকুর ও একটি শিয়াল এর আগে মারা গেছে। তখন গ্রামবাসি তাকে বিদ্যুৎ এর ফাঁদ পাতা থেকে বিরত থাকতে বলে। কিন্তু তারা তাদের জায়গায় অটল থাকায় আজ এ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহাদ আলীর মৃত্যু ঘটেছে। গ্রামবাসি আরো জানায়, কালুর চাচাতো ভাই পুলিশের বড় গোয়েন্দা অফিসার জুয়েল। সে বাড়িতে এসে মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগি পরিবারকে চাপ দিচ্ছে।

জুয়েল কে পুলিশ এর কোন পদে আছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, সে একজন কনষ্টবল এর আগে সে ডিবি পুলিশে ছিল। মামলা না করতে হুমকি দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তাদের কোন হুমকি দেয়নি। যদি কেউ এমন কথা বলে থাকে তবে তা মিথ্যা কথা। আহাদ আলীরা আমাদের আত্নীয় হয়।

এ বিষয়ে শার্শা থানা ওসি রবিউল ইসলাম জানায়, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে রামচন্দ্রপুর একজন মারা গেছে। লাশ ময়না তদন্তর জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কেউ এজাহার দায়ের করেনি। এজাহার দায়ের করলে ময়না তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ