শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরের বিপুল হত্যা মামলার দুই আসামী গ্রেফতার

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ায় আশরাফুল ইসলাম বিপুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিয়াজ হোসেন বাপ্পি (২৮) ও তার সহযোগী রাজীব হোসেন (১৯) র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার। রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে র‌্যাব যশোরের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাসেল সংবাদ সম্মেলন করে আসামি গ্রেফতার ও হত্যার নেপথ্য রহস্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তবে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের স্বার্থে কিছু তথ্য প্রকাশ করেনি।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি বিশেষ টিম রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের চারখাম্বার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পিকে আটক করা হয়েছে। পরে তার জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগী রাজীবকেও আটক করা হয়।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে র‌্যাব জানায়, বাপ্পির মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছিলেন তার স্ত্রী সুমাইয়া। কিন্তু বাপ্পিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে তালাক দেন। পরে তার স্ত্রী সুমাইয়া বাপ্পির পূর্ব পরিচিত আশরাফুল ইসলাম বিপুলকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হ বাপ্পি। সে হত্যার পরিকল্পনা করে। বিপুলকে বাগের পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাপ্পি।

শনিবার রাতে নিজ এলাকা ষষ্টিতলাপাড়ায় বিপুলকে দেখতে পেয়ে বাপ্পি, রাজীবসহ আরও কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান র‌্যাব অধিনায়ক মো. রাসেল। তিনি আরও জানান, বাপ্পির বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা এবং একটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার প্রয়াত মুস্তাক আহমেদর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বিপুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বাপ্পি গং। চক্রটি মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের কিশোর গ্যাং রয়েছে। দিন-রাত এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাই ও খুন-খারাপি এবং ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত। এরআগে বাপ্পির বড়ভাই মনিরুলের বাড়িতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। সে সেনাবাহিনীর অভিযান টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে খড়কির এক নারীকে তুলে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে ওই নারীর মামলায় মনিরুল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে মাদকের ব্যবসা তার ভাই বাপ্পি পরিচালনা করে আসছিলেন। নিহত বিপুল ষষ্টিতলাপাড়ায় ভাড়া থাকতেন। তিনি আকতার হোসেনের ছেলে। বাপ্পির তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সুমাইয়াকে বিয়ে করে বারান্দিপাড়ায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। হত্যার এ ঘটনায় নিহতের মা মোমেনা খাতুন কোতোয়ালি থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ষষ্টিতলাপাড়ার মোস্তর ছেলে রুবেল, যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ওলিয়ারের ছেলে রব, শহরের ডালমিল কলাবাগান এলাকার ইমন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন। আটক রাজীব মামলার সন্দেহভাজন আসামি। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে তিনজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বন্ধুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করায় আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আশরাফুলের মা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ