নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর (যশোর):
যশোরের মণিরামপুরে সরকারি বরাদ্দের টাকা দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে কলেজ মাঠ ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ মাঠ ভরাটের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের টাকা দিয়ে মাটি না কিনে উপজেলার পাঁচবাড়িয়া এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে কলেজ মাঠে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া শ্মশানঘাটে মুক্তেশ্বরী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে মনিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়ক টপকে বালু আনা হচ্ছে কলেজ মাঠে। বালু ছড়াতে মাঠে একটি স্কেভেটরও রাখা আছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাঠের ২৬ হাজার ৪০০ বর্গফুট এলাকায় প্রায় ৬৬ হাজার বর্গফুট বালু ফেলা হয়েছে। কোথাও দুই ফুট আবার কোথাও পাঁচ ফুট পর্যন্ত বালু স্তূপ করা হয়েছে।
মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমেন ম-ল বলেন, ইউএনও স্যার আমাদের সভাপতি। মাঠ ভরাটের জন্য সরকারিভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেই টাকা দিয়ে যন্ত্র ও লোক ভাড়া করে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বালু তুলে কাজ করেছি। পরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ইউএনও স্যার কলেজ ফান্ড থেকে আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,২২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থের কলেজ মাঠে স্তর ভেদে দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বালু ফেলা হয়েছে। প্রতিফুট বালুর জন্য সাড়ে সাত টাকা খরচ হয়েছে। ইউএনও স্যারের সহযোগিতা না পেলে কাজটি এভাবে করা সম্ভব হতো না।
তবে কলেজের সভাপতি ইউএনও নিশাত তামান্না বলছেন,বালু কিনে এনে কলেজ মাঠ ভরাট করা হয়েছে। মুক্তেশ্বরী নদী থেকে কোনো বালু উত্তোলন করা হয়নি। কারণ নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

