শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি,

আরো খবর

সাতক্ষীরায় পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিপাকে খামারিরা

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় পশুখাদ্যের দাম উর্দ্ধমুখী হওয়ায় খামারিরা বিপাকে পড়েছে। প্রায় দুই মাস জেলায় পশুখাদ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। ভূষি, ক্যাটল বুস্টার, গম ইত্যাদির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গরুকে খাদ্যের চাহিদার তুলনায় কম খাওয়ানো হচ্ছে। এর ফলে দুধ উৎপাদন ও (পশু) গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণে কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।

খামারিরা বলছেন, আগামী কুরবানি ঈদে চাহিদার তুলনায় মাংস উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার কৃষকরা গবাদি পশুসহ সাধারণন মানুষ হাস-মুরগি, কবুতর, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন পশু-পাখি পালন করে। এসব পশু-পাখির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা পশু পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের খাওয়ার চালের চেয়েও খুচরা মূল্যের পশুখাদ্যের মূল্য বেশি। বাজারে এক কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি পশুখাদ্য গমের ভূষি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

শহরের বড়বাজরের পশুখাদ্য ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, দেড়-দুই মাস আগে ৩৭ কেজি ভূষি প্রতি বস্তার ১২-১৩ শত টাকা মূল্য ছিল, এখন এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা হয়েছে। ৩৭ কেজির ক্যাটল বুস্টার প্রতি বস্তার মূল্য ছিল এক হাজার ৫০ টাকা, এখন সেটি এক হাজার ২৫০ টাকা বস্তা। ৩৪ কেজি গমের বস্তা ছিল এক হাজার ১০০ টাকা বর্তমানে হয়েছে একক হাজার ৪০০ টাকা। লবণ প্রতি ৫০ কেজির বস্তা আগে ছিল ৫৫০ টাকা, এখন হয়েছে ৭৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি খাদ্য নারিশ ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ছিল দুই হাজার ৪৭৭ টাকা। বর্তমানে হয়েছে দুই হাজার ৯৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের জন্য লিয়ার প্রতি ৫০ কেজির বস্তা আগে ছিল দুই হাজার ২৬২ টাকা বর্তমানে হয়েছে দুই হাজার ৪৮৭ টাকা।

শহরের পশুর খুচরা খাদ্য বিক্রেতা আনন্দ সানা জানান, পশুখাদ্যের সংকট নেই। মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমাদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। আগের তুলনায় খাদ্য কম বিক্রি হচ্ছে।

মিল মালিক আবু হেন জানান, দেশে গম উৎপাদন কম হয়। কয়েক মাস বিদেশ থেকেও গম আমদানি কম হচ্ছে। তাই বয়লার কুড়া (ভূষি) ও বুস্টার উৎপাদন কম হওয়ায় ভূষিসহ অন্যান্য খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

খামার মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আমার খামারে গাভী ও ষাড় মিলিয়ে ১৮টি গরু রয়েছে। গত প্রায় দুই মাস খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। খামার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আগে যেখানে দৈনিক দুই থেকে আড়াই হাজার খরচ হতো সেখানে এখন ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

খামারি ব্যবসায়ী রিপন আহমেদ বলেন, পশুখাদ্যের মূল্য বর্তমানে এতটাই চড়া যে তা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আমার খামারে ১০টি গাভি ও ৪টি ষাড় আছে। প্রতিদিন গড়ে এক বস্তা করে গমের ভূষি ও বুটের খোসা ও অন্যান্য খাদ্য লাগে। কিন্তু হঠাৎ করে ভূষি ও বুটের খোসার দাম বাড়ায় খুব অসুবিধায় পড়েছি। খাদ্যের দাম বাড়ায় গাভিকে কম খাওয়াতে হচ্ছে। এতে দুধ কম পাচ্ছি। এখন দুধ বিক্রি করে পোষাচ্ছে না।
এদিকে, হঠাৎ খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগামী কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে যে লাভের আশায় করছেন খামারিরা তাতে লোকসান গুণতে হবে। দ্রুত খাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে হয় এখনই গরু বিক্রি করতে হবে, নয়তো খামার বন্ধ করে দিতে হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আব্দুর রউফ বলেন, বাজারে পশুখাদ্যের দাম একটু বেশি। প্রান্তিক খামারি ও কৃষকরা অনেকটা বিপাকে পড়েছেন। এজন্য গবাদি পশু পালনকারী ও খামারিদের দানাদার খাবারের উপর চাপ কমিয়ে ঘাস উৎপাদনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ