শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

আরো খবর

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রোগী ও তাঁর আত্মীয় স্বজনকে হেনস্তাসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ মানুষের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। 
শৈলকুপা হাসপাতালে ডা. মামুন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে যোগদানের পর থেকে রোগী ও তাঁর আত্মীয় স্বজনকে হেনস্তাসহ স্বাস্থ্য সেবা এ প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলেছেন দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও তে দেখা যায় আরএমও ডা. মামুন রোগীর স্বজনকে হুমকি ধামকি দিয়ে বলছেন আমার বাড়ি শৈলকুপা পৌরসভায় লন্ডন না।তোর বাড়ি কোথায়?এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষুদ্ধ রোগী ও রোগীর স্বজনরা। ভিডিও টিতে আরো দেখা যায় তিনি এক মহিলাকে বেয়াদব বলে বের করে দিচ্ছেন।
ভিডিওতে আরো দেখা যায় তিনি এক রুগীকে বিকালে চেম্বারে টাকা নিয়ে দেখা করতে বলছেন।ভিডিও’র একাংশে তিনি বলছেন আমার মাথা গরম আছে তুই কে তোর পরিচয় কি এমন অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এবিষয়ে হেনস্তার শিকার রোগীর স্বজন জানায়,আমার মেয়েকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি পরে ডাক্তার কিছু রিপোর্ট করতে দেয় আমি শৈলকুপা একটি প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে রিপোর্ট করে নিয়ে গেলে তাঁর পছন্দের ক্লিনিকের না হওয়ায় তিনি না দেখে চলে যান। পরে তাকে রিপোর্ট দেখাতে গেলে তিনি আমাকে বেয়াদপ বলে তুই তুকারি করে বের হয়ে যেতে বলেন।তিনি বলেন একজন ডাক্তারের ব্যবহার এতো খারাপ হতে পারে আমার জানা ছিলনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তার স্বজন এবং স্থানীয়রা জানায়, আরএমও ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন বেশিরভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নিয়ে থাকেন। ফলে সামান্য অসুস্থ রোগীকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে পছন্দসই ক্লিনিকে পাঠাতে বাধ্য করেন৷ হাসপাতালে সকল অপারেশন বন্ধ করে ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের কাছে রোগী পাঠিয়ে সেখানে গিয়ে নিজেই অপারেশন করেন।
বেশিরভাগ সময় নিজের কোয়ার্টারে রোগী দেখে ভিজিট নেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেখেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে তিনি ছাড়া অন্য কোন ডাক্তারকে রাউন্ডে যেতে বাঁধা প্রদান করেন। রাউন্ডের সময় তাঁর সাথে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল থাকে বলে রোগীর স্বজনের অভিযোগ।
তিনি নিজে ক্লিনিক দালালদের সাথে নিয়ে রাউন্ডে যান। ক্লিনিকের কমিশন পেতে রোগীদের উপর চাপিয়ে দেয় অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা। আরএমও’র বরাত দিয়ে দালালরা জোর করে রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নামমাত্র পরীক্ষা নিরিক্ষা করে রোগীদের উপর চাপিয়ে দেয় বিলের বোঝা।
শৈলকুপা হাসপাতাল এখন আরএমও’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলেও অনেকে দাবী করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রেসক্রিপশনের উপরে টেস্টের মূল্য নির্ধারণ করে পাঠিয়ে দেন পছন্দসই ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালে ভর্তি ও জরুরী বিভাগে আগত রোগী নিজের সরকারী চেম্বারে ডেকে নিয়ে ভিজিট নেয়ার অহরহ অভিযোগ তো রয়েছেই।
এছাড়াও তিনি হাসপাতালে একাই রাউন্ড দেবেন, অন্য কোন চিকিৎসক রাউন্ডে যেতে পারবে না। মনোনিত ক্লিনিক দালালদের সাথে নিয়ে রাউন্ডে গেলেই মেলে টেস্টের কমিশন। অন্যদিকে বিভিন্ন নিন্মমানের ঔষধ কোম্পানির ঔষধ লেখে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শৈলকুপা হাসপাতালের আরএমও তার কোয়ার্টারে ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে ভিজিট নিয়ে রোগী দেখার কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ।
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।রোগী ও রোগীর স্বজনের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন তখন আমার মাথা গরম ছিল তাই তুই তোকারি করে ফেলেছি।হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসে ফি নিয়ে রোগী দেখার অভিযোগকে মিথ্যা বলেন।পছন্দের ক্লিনিকের রিপোর্ট ছাড়া দেখেন না এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব ক্লিনিকের রিপোর্ট ভালোনা তাই রোগীদের বলেদি।তবে আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।
এর আগেও একাধিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে তাঁর   বিরুদ্ধে অভিযোগের নিউজ প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন।
এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন,আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে রোগী ও রোগীর স্বজনের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ দুঃখ জনক।পছন্দের ক্লিনিকের রিপোর্ট না হলে দেখেন না এটাও বড় অপরাধ।হাসপাতালে রোগী সঠিক ভাবে দেখে বিকালে কোয়ার্টারে ফি নিয়ে দেখাও ঠিক না।এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ