বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কলেজপাড়া এলাকার ইকবাল কয়েক বছর আগেও কাজ করতেন স্টুডিওতে। এখন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। রাতারাতি জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি আর নিচে আড়ৎ ব্যবসা। সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে ইকবালের অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক।
অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফরম গড়ে তুলে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন ইকবাল। এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন কিন্তু মোটা টাকায় রফাদফায় মিটিয়ে আবারও চলে তার জুয়ার প্ল্যাটফরম। বিগত সরকারের আমলে যশোর জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতার ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।
যশোরের বেনাপোল পোর্টথানাধীন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারের আড়ৎ ব্যবসায়ী ইকবালের অর্থবিত্তের মুল উৎস হচ্ছে অনলাইন জুয়া। লোক চক্ষুর অন্তরালে বেনাপোলের কলেজপাড়া এলাকার নার্সারী ব্যবসায়ী আয়াতুল্লার ছেলে ইকবাল দশ বৎসরের অধিক সময় ধরে অনলাইন প্লাটফর্মে ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ,টেলিগ্রাম বা অন্য সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপ বা চ্যানেল চালিয়ে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে। পিতার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকলেও ক্রিকেট ম্যাচ,ক্যাসিনো গেমস ও লটারির মত জুয়া পরিচালনা করেই রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন এই ইকবাল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় শতাধিক কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার কামানোর মোহে পড়েছেন গৃহবধূ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরাও। এই পরিসর দিন দিন বাড়ছে। অনলাইন জুয়ায় নেশাগ্রস্ত হয়ে অনেকেই সর্বসান্ত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। কিশোর বয়সেই অনেকে হয়েছে বিত্ত-বৈভবের মালিক। তেমনই এক আলাউদ্দিনের চেরাগ প্রাপ্ত যুবক ইকবাল।
বেনাপোল পৌরসভার সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নামে,বেনামে ক্রয় করেছেন সম্পত্তি,বাড়ি ও গাড়ী।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অনলাইন জুয়া শাস্তিমূলক অপরাধ হলেও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে নিজেকে আড়ৎ ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে থাকেন। পরিচয়ের বৈধ্যতা পেতে আনুমানিক এক কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা মূল্যের ৩টি অত্যাধুনিক হারভেস্টার মেশিন ক্রয় করে ভাড়ায় পরিচালিত করে থাকেন। সামাজিক মর্যাদা পেতে নিজ ভবনে “দারুল উলুম বোয়ালিয়া কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা” প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। আয়-ব্যায় সংক্রান্ত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়াতে বেনাপোলের একটি ব্যাংক হতে সিসি লোন পাশ করিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জুয়াড়ী জানান,বেনাপোলে এলাকায় একটি গোপন কক্ষে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশের সেটাপ বসিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হয়েছেন। জুয়ার সাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিকেট ম্যাচ,ক্যাসিনো গেমসে বাজি রাখার ব্যবস্থা করে অর্থ লেনদেন করে বা কমিশন আদান প্রদান করে। জুয়ার সাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে অন্যদের জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করে বা সুবিধা দেয় ইকবাল যা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে পড়বে।
এ সমস্ত বিষয়ে জানতে ইকবালের মুঠো ফোনে কথা বললে সাংবাদিক পরিচয় পেলে কল কেটে দেন। একাধিকবার কল করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালালে দেখা যায়,জুয়া খেলার এক সহযোগীর সাথে টাকার লেনদেন সংক্রান্তে চট্রগামের বোয়ালখালী থানায় ইকবালের নামে একটি অপহরণ মামলা রয়েছে। যাহার মামলা নং-১৫ ও তারিখ ২৬/৩/২০২৫। ঐ মামলায় জেল হাজতে থেকে জামিনে এসে আবারও জড়িয়েছে পূর্ব পরিচিত পেশায়। জুয়াড়ী হিসাবে তাকে বেনাপোল এলাকায় তেমন কেউ না চিনলেও দেশের অন্যান্য জেলা শহরসহ বিদেশীদের কাছে বড় মানের জুয়াড়ী হিসাবে সুপরিচিত ইকবাল। ইকবাল পরিচালিত অনলাইন জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন এলাকার যুবসমাজসহ উঠতি বয়সী তরুণেরা। অনলাইন জুয়ার প্রচার ও প্রসারতা রোধে প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
উল্লেখ্য,এবছর ৬ মে “সাইবার সিকিউরিটি আইন-২০২৫” অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে অনলাইনে সব ধরনের জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

