বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিমিয়ে পড়েছে যশোর পৌর সভার নাগরিক সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা প্রত্যাশীরা। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত সনদ। জন্ম-মৃত্যু , নাগরিক ও ওয়ারিশসহ বিভিন্ন সনদপত্র নিতে গিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের।
শহরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম সংস্থা পৌরসভা। নাগরিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত পৌরসভায় শরণাপন্ন হতে হয়। দেশের প্রচীনতম এইপৌরসভা কার্যালয় থেকে দেওয়া হয় ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা । এর মধ্যে অন্যতম সেবা হচ্ছে জন্ম, নাগরিক ও মৃত্যুর নিবন্ধন। এছাড়া চারিত্রিক, উত্তরাধিকারী, আয়, পারিবারিক সদস্য, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যয়ন, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় পৌর কর্তৃপক্ষকে।
নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজের তদারকি, পয় নিস্কাশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়নমুখী কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হয় পৌরসভা থেকে। টিসিবির পণ্য বিতরণের কাজও পরিচালিত হতো কাউন্সিলরদের মাধ্যমে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর পরই সারাদেশের ন্যায় যশোর পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের অপসারণ করে সরকার।
সমস্যা সমাধানে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হলেও স্থবিরতা কাটেনি প্রথম শ্রেণির যশোর পৌরসভায়। পৌর নাগরিকরা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চরম ভাবে।
পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত অনাপত্তিপত্র, জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদপত্র পেতেও ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন।
সরেজমিনে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে পাওয়া যায় কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে। বেশির ভাগই এসেছেন জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে। অন্যদিকে আরো অনেকে নাগরিকত্ব সনদ, উত্তরাধিকার সনদ এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার প্রত্যয়নপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
পৌরসভায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের অভিযোগ, জন্ম-মৃত্যু, নাগরিকত্ব সনদসহ ১৪টি সনদ সহজে পাওয়া এখন দুষ্পাপ্য হয়ে পড়েছে।
যশোর ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের এ্যাপোলো মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার আজিজুল হক জানান, তিনি একটি অনাপত্তি পত্র পাওয়ার জন্য গত ১৭ জুন পৌর প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। আবেদন পত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্তি করা হয়। আড়াইমাস যাবৎ ঘুরছি কিন্ত সনদ পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করা হচ্ছে। আজিজুল হক বলেন, তিনি শহরের একজন সুপরিচিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ। তার সাথে এইরুপ আচরণ করা হলে সাধারণ মানুষের সেবা পেতে গিয়ে কেমন ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে তা সহজে অনুমেয়।
এব্যাপারে পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগে কাউন্সিলররা যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করতেন, এখন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের এ কাজটি করতে হচ্ছে। তারা সবাইকে না চেনার ফলে যাচাই-বাছাই করতে একটু বিলম্ব হয়। ডাক্তার আজিজুল হকের আবেদনের বিষয় কার্যক্রম চলমান আছে। কয়েকদিন আগে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদক জমা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক একজন পৌর কাউন্সিলররা বলেন, ‘আগে এক দিনে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে দিতাম। এখন লাগে এক সপ্তাহ। নাগরিকত্বের সনদ দিতে আগে লাগত পাঁচ মিনিট, এখন লাগে পাঁচ-ছয় দিন।’
সূত্র জানায়,কাউন্সিলর সরিয়ে এখন সেবা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের। যারা কিনা পৌরসভার নাগরিকদের ভালো করে চিনেন না। এজন্য বিভিন্ন সনদ নিতে লন্বা সময় লাগছে। সনদের জন্য প্রথমে যেতে হচ্ছে যাচাই বাছাইয়ের জন্য পৌর প্রশাসকের সহায়তার জন্য গঠিত পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বরত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে,তাদের স্বাক্ষর নিয়ে যেতে হচ্ছে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দায়িত্বরত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে। তাদের স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয় পৌরসভায়।পরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বরত কর্মকর্তা স্বাক্ষর করলে পাওয়া যায় কাঙ্খিত সনদ।

