শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিকরগাছায় মোহম্মদ আলী ক্লিনিকে প্রসূতির ভুল প্যাথলজিকাল টেস্টে 

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের ঝিকরগাছা বাজারের বোটঘাটা রোড়ে অবস্থিত মোহম্মদ আলী ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ভুল প্যাথলজিকাল টেস্টে হুমকির মুখে পড়ে সন্তান সম্ভাব্য এক প্রসূতি। প্যাথলজিকাল টেস্টে ব্যাপক গড়মিল ও মানহীন এই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা সুস্থ রুগীরা হয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেয়া ভুল রিপোর্টে সর্বশান্ত হচ্ছেন অনেকে।

 

 

ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া ভুক্তভোগী রোগীর পিতা জানান, আমার কন্যাকে সিজারের জন্য গত ৭ আগষ্ট ঝিকরগাছা বাজারের মোহাম্মদ আলী ক্লিনিকে ভর্তি করাই। কর্তব্যরত ডা: সিজারের জন্য রোগীর রক্তের পরিমাপ করার জন্য সিবিসি টেস্ট দেয়। আমি সিবিসি টেস্ট করায় এবং সিবিসি টেস্টের রিপোর্টে দেখা যায় হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ আছে ৯.৭।

ক্লিনিকের ডাক্তার রক্ত কম আছে বলে আমাকে দ্রুত ২ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করতে বলেন। কিন্তু এরই মধ্যে আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমি মেয়েকে পুলেরহাট অবস্থিত আদ্দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে ৯ আগষ্ট পুনরায় সিবিসি টেস্ট এর রিপোর্টে দেখা যায় হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ ১২.১। ফলে রক্ত বাদেই তার সিজারিয়ান অপারেশনের পর বাচ্চা এবং মা দুজনেই সুস্থ আছে।

 

 

একই টেস্টের রিপোর্ট দুই ক্লিনিকে দুই রকম হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়ে ঝিকরগাছায় মো:আলী ক্লিনিকে ভর্তি থাকলে তাদের রিপোর্টমতে দুই ব্যাগ রক্ত দিতো। এতে ক্ষতি হলে তার দায় কে নিতো?

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, মো:আলী ক্লিনিকের ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি কোনো তদারকি নেই। ল্যাব টেকনিশিয়ান দিয়ে ক্লিনিকগুলো রিপোর্ট তৈরি করায়। রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় না হওয়ায় বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার রিপোর্টে গরমিলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রুগীরা। বর্তমান এই ক্লিনিকে ভর্তি রুগীদেরকে ক্রেডিট কার্ড মনে করে। তাছাড়া সিজার করা ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। এসব ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারপরও তারা বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্ঠ তথ্য মতে, স্থানীয় এসব ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসায় বহু মানুষ জীবন হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, আর্থিক ভাবে সর্বশান্ত হয়েছেন। এসকল ক্লিনিকে নি¤œমানের রিএজেন্ট ব্যবহার করে কমদামি, পুরাতন যন্ত্রের মাধ্যমে ল্যাব টেকনোলজিস্ট বাদেই তৈরি করা ভুল রিপোর্ট এর কারণে অনেক রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে একজন সন্তান সম্ভবা মায়ের সঙ্গে।

 

 

 

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রশিদ বলেন, একই রোগীর রক্তের হিমোগ্লোবিন এর পার্থক্য এতটা হবার কথা নয়। প্যাথলজিকাল টেস্টের ভুলের কারণে রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ