শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

তালায় সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সাবাড়

আরো খবর

শফিকুল ইসলাম, তালা, সাতক্ষীরা :
‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে সামাজিক বনায়ন থেকে প্রায় দুই হাজার বাউলা গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তালা বন বিভাগের বনপ্রহরী (এফজি) ইউনুস আলী সরদারের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে বনাঞ্চলটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় তৈরি। গাছকাটার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানেনা বলে দাবি করেছেন। তারা এটাও দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে চুক্তিভিত্তিক গাছ লাগানো হয়।

‎বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তালার কপোতাক্ষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার চারা রোপণ করা হয়। এ গাছগুলোর দেখভালের জন্য একটি সামাজিক বনায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

সম্প্রতি বৃষ্টিতে প্রায় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে। এ সুযোগে বনপ্রহরী ইউনুস আলী সরদার স্থানীয় বনাঞ্চল কমিটির সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাস ধরে প্রতিদিন ১০-১২ জন বহিরাগত শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৮০ মণ জ্বালানি কাঠ, ৩০০ থেকে ৪২০টি গুড়ি এবং বিপুল পরিমাণ ডালপালা সংগ্রহ করা হয়। এসব কাঠ বড় ট্রলারযোগে পাইকগাছা ও আশপাশের এলাকায় পাচার করা হয়েছে। এতে মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎চরগ্রামের বাসিন্দা আনিচ ফকির জানান, শত শত গাছ কেটে নেওয়া হলেও এর কোনো সঠিক হিসাব নেই। বনাঞ্চলকে ইচ্ছেমতো উজাড় করা হচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

‎সোমবার সকালে তালা বন বিভাগের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৬০টির মতো কাঠ মজুত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনুস আলী সরদার বলেন, “কমিটির সভাপতির মাধ্যমে গাছ কাটা হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে বাকি টাকা সমিতির কাছে দেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

‎সমিতির সভাপতি অমেদ আলীও দাবি করেন, গাছ কাটা হয়েছে সমিতির সিদ্ধান্তে। সবাইকে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত গাছ কাটার প্রসঙ্গে তিনি নীরব থাকেন।

‎তালা বন বিভাগের কর্মকর্তা মারুফ বিল্লা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি শুনেছি। তবে অতিরিক্ত গাছ কাটার সুযোগ নেই। এলাকার সুবিধাভোগীরাই এ টাকা পাবেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকারকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক বনাঞ্চলকে ঢালাওভাবে উজাড় করা হচ্ছে অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎এব্যপারে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপা রানী সরকার জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীকে খুজে বের করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী আঃ রহমান তাযকিয়া জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডর সাথে চুক্তি ভিত্তিক গাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সেই গাছ আমাকে না জানিয়ে কাটা হচ্ছে। বিষয়টি আমি দেখছি।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ